‘শান্তি বজায় রাখুন’! রাজ্যসভার প্রথম অধিবেশনেই বিরোধীদের কাছে ‘সহযোগিতা’ চাইলেন নতুন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ

দেশের ১৫তম উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সিপি রাধাকৃষ্ণণ (C. P. Radhakrishnan)। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর প্রধান কাজ হলো রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করা। সেই দায়িত্ব গ্রহণের পর আসন্ন শীতকালীন অধিবেশন (Parliament Winter Session 2024) শুরুর আগে রাজ্যসভার বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে প্রথমবার বৈঠকে বসলেন তিনি।
রাজ্যসভার অ্যানেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাধাকৃষ্ণণ সদস্যদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন, যেহেতু চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তাঁর হাতেখড়ি হতে চলেছে, তাই সদস্যরা যেন অধিবেশন শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্তির লক্ষ্যে তাঁর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেন।
বিরোধীদের জোরালো দাবি: জনস্বার্থ ও বিলের কপি
নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই বিরোধী দলগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো তুলে ধরেছে:
সময় বরাদ্দ: বিরোধী দলগুলি আর্জি জানিয়েছে যে জনস্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে যেন আরও বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়।
কংগ্রেসের দাবি: কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত ছিলেন জয়রাম রমেশ। তিনি দাবি করেন, সরকার কোনো বিল আনলে যেন অন্তত দুদিন আগে তার কপি দলগুলিকে দেওয়া হয়। এর ফলে বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধীরা তাদের বক্তব্য আরও গুছিয়ে পেশ করতে পারবে।
তৃণমূলের দাবি: তৃণমূলের রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার নজির রাজ্য সভায় নেই। নতুন চেয়ারম্যান যেন বিষয়টি বিবেচনা করে সভা পরিচালনা করেন।
চেয়ারম্যানের কড়া বার্তা: ‘উশৃঙ্খল আচরণ বর্জনীয়’
দলগুলির দাবি শোনার পাশাপাশি চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণণও সদস্যদের প্রতি কড়া বার্তা দেন। তিনি আহ্বান জানান, সদস্যরা যেন অধিবেশন কক্ষের বিধি লঙ্ঘন না করেন।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “এই ব্যাপারে সকলের দায়িত্বই সমান। সদস্যদের সবসময় রাজ্যসভার মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সবাই উশৃংঙ্খল আচরণ সর্বদা বর্জনীয়।” তবে সব দলের নেতারাই উপরাষ্ট্রপতিকে রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আপ্যায়নে উত্তর-দক্ষিণ মেলবন্ধন: নজর কাড়ল ইডলি-লিট্টির মেনু!
রাজনৈতিক আলোচনার পর ছিল প্রীতিভোজের আপ্যায়ন। খাবারের মেনু কিন্তু অনেক প্রবীণ সাংসদের নজর কেড়েছে এবং একটি বড় বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাধাকৃষ্ণণ যেহেতু তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের বাসিন্দা, তাই মেনুতে স্বাভাবিকভাবেই ইডলি ও ধোসা ছিল। তবে সাংসদেরা লক্ষ্য করেছেন, আপ্যায়নে পুরি সবজি এবং বিহারের জনপ্রিয় খাবার লিট্টি-সহ বেশ কিছু উত্তর ভারতীয় খাবারও ছিল।
অনেকেই মনে করছেন, উপরাষ্ট্রপতি সচেতনভাবেই সংসদীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকে এই উত্তর-দক্ষিণ মেলবন্ধনের বার্তা দিয়েছেন। এর আগে উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জগদীপ ধনকড় (রাজস্থানের) এবং এম বেঙ্কাইয়া নাইডু (দক্ষিণের) মূলত তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চলের খাবার পরিবেশন করতেন। সেই দিক থেকে, নতুন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান আপ্যায়নে এক নতুন নজির গড়লেন।