পেটের মেদ কমাতে চান? খাদ্যতালিকায় এই ৫টি খাবার আজ থেকেই যোগ করুন, জেনেনিন

পেটের মেদ কমানো অনেকের কাছেই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি কেবল পেটের মেদ কমাতেই সাহায্য করে না, বরং শরীরের সামগ্রিক ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা যায়, তবে পেটের মেদ দ্রুত কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা পেটের মেদ কমাতে সহায়ক এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন:

মটর: সেন্ট লুইস মিজোরির পুষ্টিবিদ কিম ওয়াইটজ ইটদিস ডটকম-এর এক প্রতিবেদনে জানান, উচ্চ দ্রবণীয় আঁশ পেটের মেদ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, দৈনিক ১০ গ্রাম দ্রবণীয় আঁশ গ্রহণ করলে পেটের মেদ প্রায় চার শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। মটর দ্রবণীয় আঁশের একটি চমৎকার উৎস, তাই পেটের মেদ কমাতে চাইলে এটি খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে।

টক দই: সকালের নাস্তা অথবা দুই বেলার খাবারের মাঝে চিনি ছাড়া টক দই পেটের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। যমজ পুষ্টিবিদ লিজি লাকাটোস এবং ট্যামি ল্যাকাটোস শামস নিউট্রিশনটুইন্স ডটকম-এ বলেন, টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা পেট ভরা রাখে। পর্যাপ্ত প্রোটিন মেদ কমাতে, হজমক্ষমতা বাড়াতে এবং পেশি কোষকে ভালো রাখতে সহায়ক।

বাদাম: নিউ জিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ ওটাগো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ লিডসের গবেষণার বরাত দিয়ে পুষ্টিবিদ ওয়াইটজ জানান, যারা নিয়মিত বাদাম খান তাদের পেট তুলনামূলকভাবে সমতল থাকে। এক্ষেত্রে আখরোট বিশেষভাবে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যারা প্রতিদিন আখরোট খান তাদের মেদ কমানোর হরমোন ‘অ্যাডিপোনেকটিন’ বেশি সক্রিয় থাকে। এর ফলে কোমরের মাপ ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। অ্যাডিপোনেকটিনের মাত্রা বাড়াতে তিনি প্রতিদিন আধা কাপের কম আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অতিরিক্ত আখরোট খাওয়া ওজন বাড়াতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গাজর: পুষ্টিবিদ ওয়াইটজ বলেন, ক্যারোটেনয়েডসের কারণে সবজি বা ফলের রং লাল, হলুদ বা কমলা হয়। জাপানের হিরোসাকি ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্যারোটেনয়েডস সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের পেটে মেদ জমার প্রবণতা কম থাকে। গাজর, কুমড়া, পালংশাক, বাঁধাকপি, টমেটো, মিষ্টি আলু, ব্রকলি ও মরিচ পেটের মেদ কমাতে খুবই জনপ্রিয় খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়।

কমলার রস: এবার থেকে খাদ্যতালিকায় কমলার রস যোগ করার অভ্যাস করতে পারেন। বিশেষ করে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ‘ফরটিফাইড অরেঞ্জ জুস’ পেটের মেদ কমাতে সহায়ক। কানেকটিকাটের পুষ্টিবিদ এমি গোরিন জানান, ‘দ্যা আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, যারা প্রতিদিন ১০০ আইইউ ভিটামিন ডি এবং ৩৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ কমলার রস পান করেন, তাদের পেটের মেদ অন্যদের তুলনায় দ্রুত কমে। তবে প্যাকেটজাত কমলার রসে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি মেশানো আছে কিনা, সে বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

পেটের মেদ কমাতে এই খাবারগুলো আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামই মেদ কমানোর মূল চাবিকাঠি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy