অসমের সাংস্কৃতিক আইকন জুবিন গার্গের বাসভবনে গৌতম আদানি! শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পপতি

অসমের সাংস্কৃতিক আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, গায়ক-সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের অকালমৃত্যুতে এখনও শোকস্তব্ধ রাজ্যবাসী। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত মহল পর্যন্ত সব স্তরেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই শোকের আবহেই জুবিনের শেষকৃত্যের দু’দিন পর তাঁর গুয়াহাটির বাসভবনে পৌঁছলেন দেশের শীর্ষ শিল্পপতি, আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি।

রবিবার সন্ধ্যায়, আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি তাঁর পুত্র জিত আদানিকে সঙ্গে নিয়ে গুয়াহাটির কাহিলিপাড়ায় জুবিনের বাসভবনে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সফরটি কেবল ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয়, বরং অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সম্মান প্রদর্শনের বিরল দৃষ্টান্ত।

জুবিনের স্ত্রীকে যা বললেন গৌতম আদানি
রাত ৮:৪৫ মিনিটের দিকে লোকপ্রিয় গোপীনাথ বর্দলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান গৌতম আদানি। সঙ্গে ছিলেন পুত্র জিত আদানি এবং গ্রুপের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁরা সোজা জুবিনের বাসভবনে যান এবং তাঁর স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গার্গের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা সময় কাটান।

ফুলের মালা অর্পণ করে শোকসভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গৌতম আদানি গরিমার সঙ্গে বসে জুবিনের স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। একজন কর্মকর্তা জানান, “গৌতম আদানি এবং তাঁর পুত্র জিত অসমের এই আইকনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। তাঁরা গরিমার সঙ্গে বসে গায়কের অকালমৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।” দেশের সব মহলের কাছ থেকে পাওয়া এই বিরল শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আপ্লুত জুবিনের পরিবার।

জুবিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, SIT তদন্ত
১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় ৫২ বছর বয়সে জুবিন গার্গের মৃত্যু হয়। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়া (ড্রাউনিং) উল্লেখ করলেও, জনগণের সন্দেহ এবং শিল্পী সম্প্রদায়ের দাবির কারণে অসমে ফিরে আসা মৃতদেহের দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম করা হয়েছে।

জনগণের এই সংশয়ের কারণে অসম সরকার একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করেছে। সিআইডি-র বিশেষ ডিজি এম.পি. গুপ্তার নেতৃত্বে চলছে এই তদন্ত। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থনকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

কেন জুবিন শুধু একজন গায়ক ছিলেন না?
জুবিন গার্গ ছিলেন শুধু একজন গায়ক নন, তিনি ছিলেন অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। অসমীয়া, বাংলা, হিন্দি সহ ৪০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। বলিউডের ‘য়া আলি’র মতো হিট গান থেকে শুরু করে তাঁর নিজস্ব সৃষ্টি ‘মায়াবিনী’—প্রতিটি গানই আজও মানুষের মনে বাজে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত ‘মন কি বাত’-এ তাঁকে স্মরণ করে বলেছেন, “জুবিনের সঙ্গীত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও মুগ্ধ করবে।”

জুবিন ছিলেন একাধারে সঙ্গীতশিল্পী, কবি, অভিনেতা, পরিচালক এবং একজন বড় মাপের দাতা। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, তা তাঁকে আরও বেশি আইকনিক করে তুলেছে।