নেপাল-বাংলাদেশের ভিডিও ছড়িয়ে লাদাখে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ! গ্রেফতার ৫০, আন্দোলনের পিছনে রহস্যের গন্ধ

লাদাখে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবিতে চলা হিংসাত্মক প্রতিবাদের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত চারজন আন্দোলনকারীর মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান (Retired Army personnel) ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিহতদের ময়নাতদন্ত হয়। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট, নিরাপত্তা বাহিনী এলোপাতাড়ি গুলি চালানোয় প্রতিবাদকারীদের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিনজনের দেহেই একাধিক বুলেট লেগেছিল এবং তাদের গলা ও মাথায় গুলি লাগে।

নিহতরা কেন এত দূর থেকে এলেন?
নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনের বয়স পঁচিশের নীচে, যা প্রশাসনকে বিশেষভাবে চিন্তায় ফেলেছে। তাঁরা কেউই রাজধানী লে-র বাসিন্দা নন। আন্দোলনকারী তরুণরা দুশো থেকে চারশো কিলোমিটার দূর থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে এসেছিলেন। এই তথ্য লাদাখের মানুষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবি কতটা জোরালো হয়ে উঠেছে, বুধবারের আন্দোলনেই তা স্পষ্ট করে।

ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ও গ্রেফতারি
প্রশাসন এখন পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় সেটাই দেখার। এরই মধ্যে নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান নিছকই আন্দোলনকারী ছিলেন, নাকি বিক্ষোভকারীদের প্রশিক্ষণ বা অন্যান্যভাবে সহায়তা করছিলেন, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে লে, লাদাখ এবং কারগিলে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। বুধবারের হিংসাত্মক আন্দোলনের জন্য প্রায় ৫০ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মামলা দেওয়া হয়েছে।

লে-লাদাখের উপরাজ্যপাল কোবিন্দ গুপ্তা উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আন্দোলনের পিছনে কীভাবে একটি মহল ষড়যন্ত্র করেছে, তা জনসাধারণের কাছে প্রচার করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেপাল ও বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের ভিডিত ছড়িয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ করে তোলা হয়েছিল বলেও দাবি প্রশাসনের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy