অভাব দূর করতে আদিবাসী মহিলাদের অভিনব উদ্যোগ! রেশম শাড়ির বদলে এখন তসর গুটি পোকার চাষ, স্বনির্ভরতার নতুন পথ!

সমাজের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়, বিশেষত মহিলা ও পুরুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে আসানসোলের একটি কলেজ। রেশম শাড়ি তৈরির পূর্বশর্ত হিসেবে, এই মানুষগুলিকে তসর গুটি পোকা চাষ শিখিয়ে স্বনির্ভর করে তোলা হচ্ছে। আসানসোল বি বি কলেজ এবং বর্ধমান সেরিকালচার বিভাগ যৌথভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

আসানসোলের নামু জামডোবা গ্রামের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার পুরুষ ও মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই গ্রামে প্রায় ৫২টি পরিবার রয়েছে, যাদের অনেকেই দিনমজুর বা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন এবং সবসময় কাজ পান না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁদের জন্য একটি বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

গুটি পোকা চাষ থেকে সরাসরি উপার্জন
আদিবাসী পরিবারগুলির সুবিধার জন্য এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার অর্জুন গাছের চারা পূর্বে লাগানো হয়েছিল এবং বর্তমানে আরও সাড়ে সাত হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। এই অর্জুন গাছগুলিই হলো রেশম তসর গুটি পোকার প্রধান আশ্রয় ও খাদ্য।

এই গুটি পোকা চাষে এলাকার মানুষ ভালো সাড়া দিচ্ছেন। পোকাগুলি বড় হয়ে গেলে সেগুলি বাজারে বিক্রি করে যে অর্থ আয় হবে, সেই সম্পূর্ণ উপার্জন মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা আর্থিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

কলেজের উদ্যোগ, সহজ হলো কাজ
আসানসোল বি বি কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ বসু বলেন, “আমরা ওই গ্রামে দুটো গ্রুপ করে দিয়েছি, যেখানে পুরুষ এবং মহিলারা যৌথ উদ্যোগে কাজ করছেন। তাঁদের সুবিধার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা খুব ভালো কাজ করছেন।”

এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে রেশম তসর গুটি পোকার চাষ করে এলাকার মানুষজন এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কলেজের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সকলে।