মায়ের ওপর কুড়ালের কোপ, অটোতে আগুন! মানসিক অস্থিরতায় ছেলে এই কাণ্ড ঘটাল, আতঙ্ক গ্রামে

নদিয়ার তেহট্টে এক চরম নৃশংসতার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক ছেলে গভীর রাতে তাঁর ঘুমন্ত মায়ের মাথায় কুড়াল দিয়ে কোপ মারার পর নিজের অটোতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছেলের নাম ফেলা দাস, পেশায় যিনি একজন অটোচালক। গভীর রাতে তাঁর মা অর্চনা দাস ঘরে শুয়ে ছিলেন। অভিযোগ, তখনই আচমকা ঘরে ঢুকে ফেলা কুড়াল দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। এখানেই না থেমে অভিযুক্ত এরপর বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর নিজের অটোতেও আগুন লাগিয়ে দেন।

ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙে বাবার, হাসপাতালে মা
প্রথমে ঘটনার টের পান অভিযুক্ত ফেলার বাবা। ধোঁয়া এবং আগুনের গন্ধ টের পেয়ে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। দ্রুত গিয়ে তিনি আগুন নেভানোর পর ঘরে ঢুকতেই দেখেন, তাঁর স্ত্রী অর্চনা দাস গুরুতর জখম অবস্থায় মেঝেতে কাতরাচ্ছেন।

তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

মানসিক অস্থিরতা?
কিন্তু হঠাৎ কেন অভিযুক্ত ছেলে এমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন, তা কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ফেলা দাস দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যের সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের তরফ থেকেও একই দাবি করা হয়েছে— মানসিক অস্থিরতার কারণেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ফেলা দাসকে হেফাজতে নিয়েছে। গভীর রাতে ছেলের হাতে মায়ের ওপর এমন হামলার ঘটনায় গোটা গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।