টিফিনবক্সে লুকিয়ে ছুরি, স্ত্রীর রাগে শ্যালিকাকে খুন! দিল্লি জুড়ে শিউরে ওঠা ঘটনা!

দিল্লিতে পারিবারিক বিবাদের জেরে এক নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা শহরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার আক্রোশে এক ব্যক্তি তার শ্যালিকাকে কুপিয়ে খুন করেছেন। শুধু তাই নয়, হামলায় তার শ্যালিকার বড় জা এবং মেয়েও গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনার শিকার মৃত নুসরত (৩৯) পেশায় একজন বাউন্সার ছিলেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ২০ বছরের মেয়ে সানিয়া এবং বড় জা আকবরি (৪২)।

ঘটনার বিবরণ
অভিযুক্তের নাম ইস্তেখার আহমেদ ওরফে বাবু (৪৯)। জানা গেছে, নুসরতের স্ত্রী বহুদিন ধরে নিখোঁজ এবং ইস্তেখারের ধারণা যে নুসরতের পরিবারের লোকজন এই ব্যাপারে তার স্ত্রীকে সাহায্য করেছে। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই নৃশংস হামলা চালান।

মঙ্গলবার সকালে ইস্তেখার একটি টিফিনবক্সে ছুরি লুকিয়ে নুসরতের বাড়িতে পৌঁছান। নুসরত তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ইস্তেখারকে দেখে তিনি চা খাওয়ার প্রস্তাব দেন। নুসরত যখন চা বানাতে যান, তখন ইস্তেখার পেছন থেকে ছুরি বের করে তার বুক ও ঘাড়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই নুসরতের মৃত্যু হয়।

নুসরতের মেয়ে সানিয়া মাকে বাঁচাতে এলে ইস্তেখার তাকেও আঘাত করেন এবং তার একটি আঙুল কেটে দেন। এরপর তিনি নুসরতের বড় জা আকবরির ওপরও হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শী ওসমানের বয়ান অনুযায়ী, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত
এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নুসরতের মৃতদেহ উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিবাদই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। অভিযুক্ত ইস্তেখারকে ঘটনাস্থল থেকেই তার ব্যবহৃত অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের মতে, নুসরতের স্বামী বর্তমানে জেলে রয়েছেন এবং চার মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।