দুর্গাপুজোয় কৃষকের সাজে মা দুর্গা! শতবর্ষে টালা প্রত্যয়ের মণ্ডপে গিয়ে যা দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী

শতবর্ষে পা দিল উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী টালা প্রত্যয় দুর্গাপূজা। এবার তাদের থিম ‘বীজ অঙ্গন’, যার মাধ্যমে বিতর্কিত ‘দিশাহীন’ কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এই পুজোর উদ্বোধন হয়। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই থিমের নামকরণ করেছেন, এমনকি এর থিম সংটিও তিনি লিখেছেন এবং তাতে সুর দিয়েছেন।

এই অভিনব থিমকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছেন বিখ্যাত শিল্পী ভবতোষ সুতার। মণ্ডপে দেখা যাচ্ছে বাংলার গ্রামীণ এলাকার খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর, বাঁশের উপর জ্বলছে প্রদীপ, সারের বস্তা এবং লাঙল। সবচেয়ে বড় চমক হলো প্রতিমা। এখানে মা দুর্গা অসুরদলনী রূপে নন, বরং তিনি একজন প্রান্তিক চাষি। মায়ের হাতে ত্রিশূলের বদলে রয়েছে লাঙল, এবং তিনি পা দিয়ে ইউরিয়ার বস্তা মাড়িয়ে দিচ্ছেন। ইউরিয়ার বস্তা থেকে বেরিয়ে আসছে ‘দিশাহীন’ কৃষি বিলের চুক্তির কাগজ।

মণ্ডপে ‘বীজ অঙ্গন’-এর গভীর বার্তা
টালা প্রত্যয়ের কর্মকর্তা ধ্রুবজ্যোতি (শুভ) বসু বলেন, “কলকাতা দুর্গাপূজা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্ট ফেস্টিভ্যাল। আমরা এবার থিম করেছি বীজ অঙ্গন। এই থিমের মাধ্যমে আমরা মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য অভ্যাসে বিষ মিশে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরছি। এই বিষ মেশানোর জন্য কৃষক নয়, বরং কৃষি নীতিই দায়ী।”

এই থিমের মূল বার্তা হলো, বীজ হলো বাস্তুতন্ত্রের ক্ষুদ্রতম একক। একসময় বীজ ছিল সভ্যতার স্মৃতির ভাণ্ডার, কিন্তু এখন তা বিপন্ন। একক চাষের কারণে মানুষ একের পর এক আদিম বীজ হারিয়ে ফেলছে। খাদ্যশৃঙ্খল এখন কুক্ষিগত হয়ে আছে সার, কীটনাশক ও জিন কাটাছেঁড়ার গবেষণাগারে। এই পুজো মণ্ডপ দর্শকদের সেই জটিল বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।

ক্লাবের সদস্য প্রিয়দর্শিনী ঘোষ বাওয়া জানান, এই মণ্ডপে দর্শনার্থীরা কেবল শিল্প উপভোগ করবেন না, বরং একটি সামাজিক বার্তাও পাবেন।