টেন্ডার ছাড়াই কাজের বরাত, ভুয়ো সংস্থাকে টাকা! কেন কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়াল MAKAUT?

পশ্চিমবঙ্গের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (MAKAUT) প্রায় ৮৩৭ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং পুজোর পর পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজ্য সরকারের নিজস্ব অডিটে দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডার ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে এবং তার কোনো সঠিক হিসাব কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো সংস্থাকে কাজ দিয়ে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, কিন্তু কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা কেউ জানে না।
মূল অভিযোগগুলো কী?
টেন্ডার ছাড়াই বরাত: অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম ভেঙে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে, যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই।
ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি: এমন কিছু ভুয়ো সংস্থাকে অর্থ দেওয়া হয়েছে, যারা কাজ শেষ করেনি বা কাজ সম্পন্ন করার কোনো প্রমাণ নেই।
অগ্রিম টাকা প্রদান: কিছু প্রকল্পের জন্য কাজ শেষ হওয়ার আগেই মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেআইনি নিয়োগ: বিধি না মেনে বহু কর্মী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগের পর আদালত সব পক্ষকে হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। এরপর পুজোর পর এই মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই মামলার রায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিই নয়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।