শিলিগুড়িতে বৃষ্টির দাপট, বিপাকে শিল্পীরা; বাড়তি খরচ করেও কেন শেষ হচ্ছে না প্রতিমা তৈরির কাজ?

আর হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। এর মধ্যেই শেষ করতে হবে প্রতিমা তৈরির কাজ। কিন্তু উত্তরবঙ্গে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা এই কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেঘলা আকাশ, ঘন ঘন বৃষ্টিতে প্রতিমার রঙ শুকানো থেকে শুরু করে মাটির কাজ পর্যন্ত ব্যাহত হচ্ছে। শিলিগুড়িসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার মৃৎশিল্পীরা এখন চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এবার পুজোর সময়ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, প্রস্তুতিপর্বের এই সমস্যা পুজোর দিনগুলোতেও বজায় থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বড় বাজেটের পুজো থেকে শুরু করে ছোট বারোয়ারি পুজো, সবারই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

কী কী সমস্যায় পড়ছেন শিল্পীরা?
বৃষ্টির কারণে প্রতিমা শিল্পীরা নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

রঙ ও মাটি শুকানো: আবহাওয়ার কারণে প্রতিমার রঙ ও মাটি শুকোতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে তাই অনেকেই হিটার, ফ্যান বা বড় ইলেকট্রিক বাল্ব ব্যবহার করছেন, যা তাদের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অতিরিক্ত খরচ: শিল্পীরা জানান, শুধুমাত্র অতিরিক্ত আলোর খরচেই তাদের বাজেট বেড়ে যাচ্ছে।

শারীরিক কষ্ট: বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা সরবরাহ করার চাপে কাজ বন্ধ রাখতে পারছেন না।

শিলিগুড়ি মৃৎশিল্পী উন্নয়ন সমিতির অধীনে প্রায় ৭০০ জন শিল্পী রয়েছেন। এছাড়াও প্রতি বছর বিভিন্ন জেলা থেকে বহু শিল্পী এখানে এসে কাজ করেন। শিলিগুড়ি থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা পাঠানো হয়। শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় প্রায় ৬০০টি বারোয়ারি পুজো হয়, এছাড়াও পাড়ার ও আবাসনের পুজো মিলিয়ে সংখ্যাটা হাজারেরও বেশি।

প্রতিমা শিল্পী বাপি পাল বলেন, “এ বছর পুজো অনেকটা এগিয়ে আসায় বড় প্রতিমাগুলো নিয়ে সব থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে যাচ্ছে, তাই প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে। আমরা নিজেরাই ভিজে কাজ করছি, যাতে দ্রুত প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছানো যায়।” আরেক শিল্পী চন্দন মণ্ডল বলেন, “আমাদের সমস্যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অতিরিক্ত খরচ করেও কাজ শেষ করতে পারছি না। আর মাত্র ক’দিন বাকি, জানি না কীভাবে সব কাজ শেষ হবে।”