নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও এর ঝুঁকি কমাতে কি করবেন জেনেনিন

হৃদরোগ এখন আর শুধু পুরুষদের সমস্যা নয়। নারীরাও এই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির শিকার হচ্ছেন। তবে দুঃখজনকভাবে, নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো প্রায়শই পুরুষদের থেকে ভিন্ন হওয়ার কারণে অনেকেই এটিকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে ভুল করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এর ফলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের মতো নারীদেরও বুকে ব্যথা হতে পারে, তবে এর পাশাপাশি কিছু ভিন্ন উপসর্গও দেখা যায়। নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সময় পিঠ ও ঘাড়ে তীব্র ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, পেটের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, হালকা মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরানোর মতো লক্ষণও দেখা যেতে পারে। এমনকি, হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগে অনেক নারী ফ্লু-এর মতো অসুস্থতা অনুভব করতে পারেন এবং ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রায় ভুগতে পারেন।

এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হার্ট অ্যাটাকের সময় দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিলে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক হলে যা করবেন:

অবিলম্বে রোগীকে কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়।
হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন। তার জামাকাপড় ঢিলা করে দিন যাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
রোগীর আশেপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন, যাতে তিনি গভীরভাবে শ্বাস নিতে পারেন।
যদি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করুন।
রোগী বমি করলে তাকে একদিকে কাত করে দিন, যাতে বমি সহজে বেরিয়ে আসতে পারে এবং শ্বাস আটকে না যায়।
হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাজারে প্রচলিত ৩০০ মি.গ্রা. ডিসপ্রিন (অ্যাসপিরিন), ৩০০ মি.গ্রা. ক্লোপিডোগ্রেল, ৪০ মি.গ্রা. অ্যার্টভাস্টাটিন এবং ৪০ মি.গ্রা. ওমিপ্রাজল খাইয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিত।
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর উপায়:

জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। এক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার:

ধূমপান হৃদরোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
মাদকদ্রব্য সেবনও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সব ধরনের মাদক পরিহার করা উচিত।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন বা যোগাভ্যাস করতে পারেন।
নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং তাদের দেওয়া উপদেশ মেনে চলুন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এর জন্য নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খাবারের তালিকায় যোগ করুন।
মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে। নারীদের উচিত তাদের শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।