নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় কোর্টরুম ড্রামা ‘দামিনী’-র মতো ‘জলি এলএলবি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বর্তমানে দর্শকদের কাছে এক আইকনিক নাম। সুভাষ কাপুর পরিচালিত এই সিরিজের নতুন ছবি ‘জলি এলএলবি ৩’ আবারও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি শুধু একটি কোর্টরুম কমেডি নয়, বরং সামাজিক ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং শক্তিশালী অভিনয়ের এক দারুণ মেলবন্ধন।
এই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃষক রাজারাম সোলঙ্কির আত্মহত্যা। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী জানকি (সীমা বিশ্বাস) দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী হরিভাই খেতানের (গজরাজ রাও) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। খেতানের ‘বিকানের টু বস্টন’ প্রকল্পটি ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশের জমি অধিগ্রহণ আন্দোলনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা ছবির কাহিনিকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।
অক্ষয় কুমার ও আরশাদ ওয়ারসি: এই ফ্র্যাঞ্চাইজির দুই মূল অভিনেতা অক্ষয় কুমার ও আরশাদ ওয়ারসির প্রত্যাবর্তন ছিল এক দারুণ বিষয়। অক্ষয়ের তীক্ষ্ণ সংলাপ এবং আরশাদের সাবলীল কমেডি দর্শকদের মুগ্ধ করবে। তবে তাদের চরিত্রগুলো শুধু মজার নয়, নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত সাধারণ মানুষের প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিশ্বাসযোগ্য।
সৌরভ শুক্লা: বিচারক সুন্দরলাল ত্রিপাঠীর চরিত্রে সৌরভ শুক্লা পুরো ছবির মেরুদণ্ড। আগের দুই পর্বের মতোই তার অভিনয় ছিল অসাধারণ। এই ছবিতে তাকে আরও নতুন রূপে দেখা গেছে—রসিকতা, ব্যঙ্গ এবং মানবিক কোমলতার এক দারুণ মিশ্রণ তার চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সীমা বিশ্বাস ও গজরাজ রাও: সীমা বিশ্বাস জানকির চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন, আর গজরাজ রাওয়ের হরিভাই খেতান চরিত্রটি দর্শকদের মনে দাগ কাটবে।
ছবির সংলাপগুলোতে ব্যঙ্গের দারুণ ঝাঁজ আছে, আর হাসির মুহূর্তগুলোও বেশ উপভোগ্য। পরিচালক সুভাষ কাপুর কৃষক আত্মহত্যার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়কে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ না করে ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে, কিছু জায়গায় দুর্বলতাও চোখে পড়েছে, যেমন—অপ্রয়োজনীয় গান এবং উট দৌড়ের দৃশ্য যা ছবির গতিকে কিছুটা ব্যাহত করেছে।
সবশেষে বলা যায়, ‘জলি এলএলবি ৩’ কোর্টরুম কমেডির চেয়েও বেশি কিছু। এটি সিস্টেমকে প্রশ্ন করে, দর্শককে হাসায় এবং একই সঙ্গে তাদের ভাবিয়ে তোলে। অক্ষয়-আরশাদের জুটি, অন্যান্য অভিনেতাদের শক্তিশালী অভিনয় এবং সৌরভ শুক্লার অসাধারণ উপস্থিতি ছবিটিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই ছবি আবারও প্রমাণ করল কেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনও এত গুরুত্বপূর্ণ।