‘কম দামে জমি কিনলে এমনই হবে’, ইটভাটার মালিকের হুমকিতে ত্রস্ত শান্তিপুরের বাসিন্দারা

শান্তিপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাগড় দাসপাড়া এলাকায় একটি ইটভাটার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইটভাটাটি নিচু হওয়ায় এর পাশে অবস্থিত উঁচু জনবসতিতে ধস নামছে। এর ফলে প্রায় ৯টি পরিবারের বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে এবং হেলে গিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বিপর্যস্ত এই পরিবারগুলো।
অভিযোগ ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে
দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের বাড়ির পেছনের ইটভাটার মালিক বেচা ঘোষ কিছুদিন আগে জেসিবি দিয়ে তাদের সীমানা সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কেটেছেন। এর ফলেই তাদের ভিটের মাটি ধসে যাচ্ছে। একাধিকবার এই বিষয়ে জানানো হলেও ইটভাটার মালিক কোনো সমাধান না করে উল্টো হুমকি দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলির অভিযোগ, ইটভাটার মালিকের ছেলে সিভিক ভলেন্টিয়ার হওয়ায় পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে, “কম দামে জমি কিনে বসবাস করলে এমনই হবে।” বাসিন্দাদের দাবি, মাটি কাটার পর একটি বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করে দিলেও এখন তার নিচ দিয়েও মাটি সরে যাচ্ছে।
পাল্টা অভিযোগ মালিকের
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইটভাটার মালিক বেচা ঘোষ জানান, তিনি এর আগেও পরিবারগুলিকে মাটি দিয়ে সাহায্য করেছেন। তার দাবি, যে খালটি রয়েছে সেটি বহু পুরোনো এবং তিনি মানুষের সুবিধার জন্যই চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে জনবসতি উঁচুতে এবং ভাটা নিচু হওয়ার কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাসিন্দারা তার সঙ্গে অপমানসূচক কথা বলায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কাউন্সিলরও অসহায়
স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর বলরাম ঘোষ জানান, এই ঘটনা জানার পর তিনি নিজেও ইটভাটার মালিকের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করা হয়নি, উল্টো তাকেও অসম্মান করা হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসীরা শান্তিপুর থানা এবং পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।