অস্ত্রোপচারের মাঝেই অপারেশন থিয়েটার ছাড়লেন চিকিৎসক! রোগীর প্রাণ বিপন্ন করে যা ঘটালেন? শুনে চমকে যাবেন

চিকিৎসাজগতে এক অবিশ্বাস্য এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। টেমসাইড হাসপাতালের এক চিকিৎসক, ডা. সুহাইল আনজুম, অস্ত্রোপচারের মাঝপথে অপারেশন থিয়েটার ছেড়ে চলে গিয়ে এক নার্সের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। এই ঘটনাটি গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর ঘটলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী তিন সন্তানের জনক ডা. আনজুম অস্ত্রোপচারের সময় তার সহকর্মীদের বলেন যে তিনি বাথরুমে যাচ্ছেন। কিন্তু আসলে তিনি অন্য একটি অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে এক নার্সের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। আরেক সহকর্মী তাদের ওই অবস্থায় দেখে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নার্সের ট্রাউজার হাঁটু পর্যন্ত নামানো ছিল এবং ডা. আনজুম তখন মুখ মিলন করছিলেন।
অস্ত্রোপচারের সময় ডা. আনজুম প্রায় আট মিনিট বাইরে ছিলেন। ওই সময় রোগী জেনারেল অ্যানাস্থেশিয়ার আওতায় থাকলেও তার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। তবে, ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনজুমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল সার্ভিস (MPTS) এই ঘটনাকে “গুরুতর অসদাচরণ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে ট্রাইব্যুনালের কাছে ডা. আনজুম নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, এটি তার “একবারের ভুল সিদ্ধান্ত” এবং তিনি ভবিষ্যতে এমন আর করবেন না। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি কেবল রোগী ও নিজেকে নয়, তার পেশা এবং সহকর্মীদের সম্মানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান রেবেকা মিলার মন্তব্য করেন, আনজুম রোগীর স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তবে, তিনি যেহেতু তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি “খুবই কম”, তাই তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার মতো বড় কোনো শাস্তি আরোপ করা হয়নি। এই রায়ের পর চিকিৎসকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন গুরুতর অপরাধের পরও উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া চিকিৎসা পেশার নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ডা. আনজুম পাকিস্তানে রয়েছেন এবং সেখানেই চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে পুনরায় চিকিৎসা পেশায় যোগ দিতে চান। ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী বৈঠকে তার রেজিস্ট্রেশনে কোনো সতর্কীকরণ যোগ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।