বিজেপির ‘খেয়াল’ রাখছে না শরিকরা! উত্তরপ্রদেশ-বিহার-তামিলনাড়ুতে চরম চাপে গেরুয়া শিবির

গত লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজেপি তাদের জোটসঙ্গীদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। কারণ, আগের দুই মেয়াদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এবার তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে। ফলে, সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য ছোট ছোট শরিকদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে তাদের শরিক দলগুলো।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোটসঙ্গী হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা (হাম) এবং জিতন রাম মাঝির দল প্রকাশ্যে চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, জেডিইউ নিজেদেরকে বিজেপির ‘বড় ভাই’ হিসেবে দাবি করছে এবং এলজেপি (রাম বিলাস) লোকসভা ভোটের ফলাফলের অনুপাতে আসন চাইছে। এই পরিস্থিতি বিহারে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালে বিধানসভা নির্বাচন হলেও এখনই দর কষাকষি শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শরিক দল নিশাদ পার্টি সম্প্রতি সুভাষপ, আপনা দল এবং আরএলডি-র নেতাদের এক মঞ্চে এনেছে। তারা তাদের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী আরও বেশি আসন এবং ‘ভাগ’ দাবি করেছে। এই জোটবদ্ধ চাপ বিজেপির অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।
তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কে হারাতে বিজেপি চাইছে এআইএডিএমকে-র বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করতে। কিন্তু এআইএডিএমকে নেতা ই. পালানিস্বামী বিজেপির এই মধ্যস্থতা মানতে রাজি নন, যা জোট গঠনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকে এআইএডিএমকে একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে, যা বিজেপির জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, দশ বছর ধরে শরিকদের উপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার পর এখন বিজেপিকে জোটের রাজনীতিতে নতুন করে নিজেদের কৌশল সাজাতে হচ্ছে।