ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা, এবং তার রেশ ম্যাচের পরেও থেকে যায়। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্ক নিয়ে উত্তাপের পারদ চরমে পৌঁছেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ ইউসুফ ভারতীয় দল এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ইউসুফ বলেন, “ভারত এখনও তাদের ফিল্মি জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। যেভাবে তারা জিতেছে, তাতে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিকে ব্যবহার করে পাকিস্তানকে নির্যাতন করা হয়েছে।” এরপরেই তিনি সূর্যকুমারকে ‘সুয়ার কুমার’ বলে সম্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বারবার তাঁকে সঠিক নাম মনে করিয়ে দিলেও ইউসুফ একই কথা বলতে থাকেন।
মহম্মদ ইউসুফের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নেটিজেনরা ইউসুফের কদর্য ভাষার কড়া সমালোচনা করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটারের এমন মন্তব্য ক্রিকেট বিশ্বের স্পোর্টসম্যানশিপের সঙ্গে বেমানান বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
আসল বিতর্ক শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর যখন ভারতীয় ক্রিকেটাররা প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেননি। ভারতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক ও মানবিক কারণ রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে পহেলগাঁওতে জঙ্গিহানায় নিরীহ পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনা ভারত ভোলেনি। এই জয়ের পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেছিলেন, “পহেলগাঁও জঙ্গিহানায় নিহত পর্যটকদের পরিবারের পাশে আছি আমরা। আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করছি।”
সূর্যের এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানের দিক থেকে একাধিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্টকে নিয়েও তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছে। তারা এসিসি-র কাছে দাবি জানিয়েছে, পাইক্রফ্টকে রেফারির দায়িত্ব থেকে সরানো না হলে তারা এশিয়া কাপ খেলবে না।
সব মিলিয়ে, মাঠের উত্তাপ এখন মাঠের বাইরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং দুই দেশের ক্রিকেট মহলে ছড়িয়ে পড়েছে