গরু পাচারকারীদের হাতে খুন NEET পরীক্ষার্থী! দীপকের মৃত্যুতে রণক্ষেত্র গোরক্ষপুর

গরু পাচারকারীদের হাতে ১৯ বছর বয়সী এক NEET পরীক্ষার্থীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর। নিহত ওই যুবকের নাম দীপক গুপ্তা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং পিএসি (PAC) বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে। গোরক্ষপুরের জঙ্গলধুসার গ্রামে দীপকের পরিবারের একটি গোডাউন থেকে গরু পাচারের চেষ্টা করছিল ১০-১২ জনের একটি দল। দীপকের তুতো ভাই প্রথমে তাদের দেখতে পেয়ে দীপককে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে দীপক তাঁর স্কুটারে ১০-১৫ জন গ্রামবাসীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পাচারকারীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পাচারকারীরা দীপককে একটি মালবাহী গাড়িতে তুলে নেয় এবং কয়েক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে খুন করে দেহ ফেলে দেয়।

মৃত্যু ঘিরে রহস্য

দীপকের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, পাচারকারীরা দীপককে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথায় আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

গোরক্ষপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) রাজ করণ নায়ার বলেছেন, “মানুষজন গুলি চলার কথা বলছে, কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে না যে, গুলির কারণে কোনো আঘাত লেগেছে।” এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পাঁচটি পুলিশ টিম গঠন করা হয়েছে।

বিক্ষোভে রণক্ষেত্র

মঙ্গলবার সকালে দীপকের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গোরক্ষপুর-পিপ্রাইচ রোড অবরোধ করে এবং একটি পাচারকারীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশকে গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। এসপি (নর্থ) জিতেন্দ্র শ্রীবাস্তব সহ একাধিক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।