অভিষেকের সামনেই সংঘাতে অনুব্রত-কাজল, সিউড়ির ব্লক সভাপতির পদ নিয়ে বচসা

বীরভূম তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী-র সামনেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ। সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের সভাপতির পদ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ৬-৭ মিনিট ধরে বাদানুবাদ চলে। এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।

বৈঠকের মূল বিষয়
সোমবার বীরভূম সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের রণনীতি ঠিক করা। ২০২১ সালের নির্বাচনে বীরভূমের ১১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১০টিতে জয়ী হয়েছিল। দলের লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে ১১টি আসনেই জয়লাভ করা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনুব্রত-কাজল দ্বন্দ্ব
তবে বৈঠকের শুরুতেই সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে অনুব্রত ও কাজলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। তাদের বাদানুবাদ চলাকালীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে এবং তাদের একসঙ্গে চলার বার্তা দেয়। বৈঠকের পর অনুব্রত মণ্ডল সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। অন্যদিকে, কাজল শেখ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমরা একসঙ্গে চলব এবং ২৬-এর নির্বাচনে লড়ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন নিয়ে আমরা লড়ব।”

বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে কোনো মতানৈক্যের কথা অস্বীকার করে বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন এবং উনি তাতে খুশি।”

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা সত্ত্বেও বীরভূমে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখনো পুরোপুরি মেটেনি।