‘অনামিকাকে কি জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল?’ যাদবপুর পড়ুয়ার মৃত্যুতে প্রশ্ন জাতীয় মহিলা কমিশনের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের রহস্যময় মৃত্যুতে এবার তদন্তের গতি বাড়িয়েছে কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের বয়ান ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই ছাত্র-ছাত্রীরা অনামিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

রহস্য উন্মোচনে দুই চাবিকাঠি
তদন্তকারীরা এই মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে দুটি বিষয়কে প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন:

১. ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ: ঘটনার দিন যারা অনামিকাকে জলাশয় থেকে উদ্ধার করেছিলেন, তারা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই তাদের বয়ান থেকে পুলিশ জানতে চাইছে, দুর্ঘটনার আগে কী ঘটেছিল।

২. মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস: অনামিকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা জানার জন্য ফোনের কল ডিটেইলস পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
গত বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা একটি জলাশয় থেকে অনামিকা মণ্ডলের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব ‘রুহানিয়াত’-এর শেষ দিন ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা নাগাদ অনামিকা শৌচালয়ের দিকে গিয়েছিলেন। এর মাত্র ২০ মিনিট পরেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজি ভবনের কাছে জলাশয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জলাশয়ের পাড় থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং জলাশয়ের গভীরতাও মাপা হয়েছে। পুলিশ সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যার মধ্যে গ্রিলহীন অংশ দিয়ে দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আপাতত ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা সময়ই বলবে।