দুই সন্তানকে খুন করে বাবার আত্মহত্যা, বেঁচে থাকা মায়ের দিকেই কেন সন্দেহের তীর পুলিশের?

কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার গোনাকানাহল্লি গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক বাড়ি থেকে শিভু (৩২) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পাশেই পড়ে ছিল তার দুই সন্তানের নিথর দেহ। অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া স্ত্রী মঞ্জুলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
সংসার ও দাম্পত্য কলহ
জানা গেছে, শিভু কয়েক বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর কাজ ছেড়ে দেন। ফলে সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এর সঙ্গে যোগ হয় স্ত্রী মঞ্জুলার প্রতি তার সন্দেহপ্রবণ মনোভাব। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপের কারণে দম্পতি বেশ কয়েক মাস ধরে আত্মহত্যার কথা ভাবছিলেন। তবে তারা সন্তানদের রেখে মরতে চাননি, তাই প্রথমে তাদের খুন করে পরে নিজেরাও প্রাণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে শিভু এবং মঞ্জুলা একসঙ্গে মদ্যপান করেন। এরপর বিকেল চারটা নাগাদ তারা প্রথমে তাদের ১১ বছরের মেয়ে চন্দ্রকলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথা জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাত বছরের ছেলে উদয় সূর্যকেও একই ভাবে খুন করা হয়।
দুই সন্তানকে খুন করার পর মঞ্জুলা ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই সময় শিভু অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকায় মঞ্জুলাকে খাবার আনতে বলেন। মঞ্জুলা বাইরে থেকে ফিরে এসে দেখেন, তার স্বামী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
প্রতিবেশীর কাছে ফাঁস হলো ঘটনা
স্বামীকে মৃত দেখে মঞ্জুলা প্রতিবেশীর বাড়িতে ফোন করে বাবার সঙ্গে কথা বলতে চান। তখন প্রতিবেশীকে তিনি পুরো ঘটনা খুলে বলেন। প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে এবং মঞ্জুলাকে আটক করে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।