মমতার উত্তরবঙ্গ ছাড়তেই মাথায় হাত চা শ্রমিকদের, একসঙ্গে ৩টি চা-বাগান বন্ধ, কারণ কী?

পুজোর মুখে বন্ধ হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের আরও তিনটি চা-বাগান। বোনাস দিতে রাজি না হওয়ায় মালিকপক্ষ রাতের অন্ধকারে বাগান ছেড়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কয়েক হাজার চা শ্রমিক।
একসঙ্গে কেন বন্ধ হলো ৩টি চা-বাগান?
বন্ধ হয়ে যাওয়া চা-বাগানগুলো হলো বানারহাটের রেড ব্যাঙ্ক, সুরেন্দ্রনগর এবং চামুর্চি। এর মধ্যে রেড ব্যাঙ্ক ও সুরেন্দ্রনগর চা-বাগানের মালিকানা একই। শ্রমিকদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর ঘোষিত ২০ শতাংশ বোনাস দিতে না চাওয়ার কারণেই এই বাগানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চামুর্চি চা-বাগান কর্তৃপক্ষও সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের পক্ষে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়।
এই ঘটনার ফলে প্রায় ৪ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর প্রতিবাদে বানারহাটের ১৭ ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ধূপগুড়িতে ভুটানগামী রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়।
শ্রমিক এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া
শ্রমিকরা বলছেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের কোনো বিবাদ ছিল না। এমনকি বেতন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। কিন্তু পুজোর মুখে বোনাস না দেওয়ার জন্য হঠাৎ করে বাগান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মনোজ টিগ্গা (বিজেপি সাংসদ): তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, “প্রতিবার উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে ও চলে যাওয়ার পরে আমাদের এখানকার চা-বাগান বন্ধ হয়। সরকার ২০ শতাংশ বোনাসের কথা ঘোষণা করেছে শ্রমিকদের মন জয় করতে, কিন্তু তাতে শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন।”
মহুয়া গোপ (তৃণমূল সভাপতি): তিনি বলেন, “সরকার শ্রমিকদের পাশে আছে। চা-বাগান বন্ধ করে চলে যাওয়া ঠিক নয়। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই।”
কৃষ্ণ সেন (সিটু সম্পাদক): তিনি বলেন, “সরকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার অ্যাডভাইজারি জারি করেছে। এখন সরকারকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।”
চা-বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন কনসালটেটিভ কমিটি অব টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (CCPA)-এর উপদেষ্টা অমৃতাংশ চক্রবর্তী জানান, সব চা-বাগানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই সবার পক্ষে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। এই নিয়ে শনিবার চামুর্চি চা-বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।