জন্মাষ্টমী থেকে পুজো শুরু, চতুর্ভূজা দেবী ও বলি প্রথা! আজও ঐতিহ্য মেনে চলছে হাওড়ার রায় বাড়ির পুজো

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের পাঁতিহাল গ্রামের রায় বাড়ির দুর্গাপূজা প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন। এই পুজো শুধু পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক বড় উৎসব। যুগ যুগ ধরে কিছু বিশেষ প্রথা ও রীতি এই পুজোকে অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
১. চতুর্ভূজা দেবী ও ১৫ দিনের পুজো: সাধারণত দেবী দুর্গা দশভূজা রূপে পূজিত হলেও, এই রায় বাড়িতে মা দুর্গার চতুর্ভূজা রূপের পুজো করা হয়। প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত মোট ১৫ দিন ধরে এই পুজো চলে। প্রতিদিন দেবী দুর্গার পুজোর আগে মা সিংহবাহিনীর পুজো দেওয়ার প্রাচীন রীতি আজও এখানে অক্ষত।
২. জন্মাষ্টমীতে প্রতিমা গড়া শুরু: রায় বাড়ির পুজোয় প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় একেবারে জন্মাষ্টমীর দিনে, কাঠামো পুজো করে। বংশ পরম্পরায় ঢাকি, কামার, নাপিত, ব্রাহ্মণ এবং মৃৎশিল্পীরা এখানে কাজ করেন।
৩. নারকেল নাড়ুর বিশাল আয়োজন: রায় বাড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হলো নারকেলের নাড়ু। বর্তমানে ১২০টি নারকেল ভেঙে বাড়ির মহিলারা নিজের হাতে নাড়ু তৈরি করেন। শোনা যায়, এক সময় নাকি আরও বেশি নারকেলের নাড়ু তৈরি করা হতো।
৪. তোপধ্বনি ও বলি প্রথা: এই পুজোয় এখনও বলি প্রথা প্রচলিত আছে। সন্ধিপুজোর সময় তোপধ্বনি দিয়ে পুজোর সূচনা করা হয়, যা এক বিশেষ আকর্ষণ। এই তোপধ্বনি গ্রামবাসীকে পুজোর আগমন বার্তা দেয়।
৫. লোকনৃত্যের আসর: পুজো শুধু দেবীর আরাধনা নয়, এক সামাজিক উৎসবও বটে। প্রতি বছর নবমীর দিনে রায় বাড়ির দুর্গাদালানের সামনের মাঠে পুতুল নাচ ও সাপ খেলার আসর বসে, যা দেখতে ভিড় জমান গ্রামের সকলে।
এক সময়ের বিশাল জমিদারী, ৩২ বিঘা জমির ওপর বাড়ি এবং একাধিক দেব-দেবী মন্দির নিয়ে গড়ে উঠেছে রায় বাড়ির বিশাল ইতিহাস। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দত্ত-রায়বাহাদুর উপাধির গল্প, যা তৎকালীন বর্ধমানের রাজ আমলে পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে ৫০-এরও বেশি পরিবারের সদস্যরা পুজোর সময় একত্রিত হন এবং এক সময়ের সেই জৌলুস ও ঐতিহ্য ধরে রাখেন।