পাক ষড়যন্ত্রে যুক্ত কংগ্রেস সাংসদের স্ত্রী! বিস্ফোরক অভিযোগ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার, প্রমাণ হিসেবে কী দেখালেন?

অসমের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের স্ত্রী এলিজাবেথ কলবার্ন গগৈয়ের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। হিমন্ত শর্মার দাবি, একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, গগৈয়ের স্ত্রী এলিজাবেথের সঙ্গে পাকিস্তানের এক ষড়যন্ত্রকারী আলী তৌকির শেখের যোগাযোগ রয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, অসম সরকার পাকিস্তানি নাগরিক আলী তৌকির শেখের ভারতবিরোধী কার্যকলাপের তদন্তের জন্য একটি SIT গঠন করেছিল। সেই SIT-এর রিপোর্ট পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মা দাবি করেন যে, এই রিপোর্টে ‘ভারতের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ঠিক কী অভিযোগ করেছেন হিমন্ত শর্মা?

এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এর একটি পোস্টে শর্মা লিখেছেন, “তদন্তে বিস্ময়কর তথ্য বেরিয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক বড় ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।” তিনি আরও বলেন, রিপোর্টে একজন ব্রিটিশ নাগরিক যিনি একজন ভারতীয় সাংসদের স্ত্রী, আলী তৌকিরের ‘কুটিল কার্যকলাপে’ জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছেন।

এছাড়াও শর্মা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় অসমের একজন বর্তমান সাংসদের সেই দেশে সফরের ব্যবস্থা করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রিপোর্টটি বিস্তারিত পরীক্ষা করে গোপনীয় অংশ ছাড়া পুরোটাই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং এই বিষয়টি জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-এর কাছে পাঠানো হতে পারে।

গৌরব গগৈয়ের পাল্টা জবাব

গৌরব গগৈ এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘ফ্যাব্রিকেটেড স্টোরি’ বা বানোয়াট গল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হিমন্ত শর্মা তার সরকারের দুর্নীতি ঢাকতে এমন মিথ্যা গল্প রচনা করছেন।” গগৈ জানান, তিনি ২০১৩ সালে একবার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, যখন তার স্ত্রী সেখানে একটি জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পে কাজ করছিলেন। তিনি হিমন্তের অভিযোগকে “সি-গ্রেড বলিউড মুভির মতো” বলে কটাক্ষ করেছেন, যা ফ্লপ হয়ে যাবে।

কংগ্রেস নেতারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, যখন জনগণের মতামত বিজেপির বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তখনই বিজেপি এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে জনগণের মন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে।

অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি বড় ইস্যু হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই রিপোর্ট জনসমক্ষে এলে তা আসন্ন নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।