দমকল কেন্দ্র নাগালের বাইরে, চোখের সামনে ছাই হচ্ছে ঘর, হিঙ্গলগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাড়ছে চিন্তা

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে দমকল কেন্দ্রের অভাবে বারবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল রূপমারি পঞ্চায়েতের টিনপাড়া এলাকার একটি বাড়ি। এই ঘটনায় আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সৌভাগ্যবশত, বাড়ির মহিলা রান্নাঘরের বাইরে থাকায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
স্থানীয়রা জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হয়নি। এর প্রধান কারণ, এলাকায় কোনো অগ্নি নির্বাপন কেন্দ্র নেই। আগুন লাগলে নির্ভর করতে হয় বসিরহাট শহর থেকে আসা দমকল ইঞ্জিনের ওপর, যা পৌঁছতে প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসে। এর মধ্যে আগুন সবকিছু গ্রাস করে ফেলে। ফলে প্রায়শই দেখা যায়, দমকল পৌঁছনোর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সর্বস্ব হারাচ্ছে।
ঘনবসতি এবং কাঁচা ঘরের আধিক্যের কারণে আগুন লাগলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই আক্ষেপ, “প্রতিবার একই চিত্র। দমকল পৌঁছনোর আগেই সব শেষ। আমাদের হিঙ্গলগঞ্জ বা হাসনাবাদ এলাকায় যদি একটি দমকল কেন্দ্র থাকত, তবে এত ক্ষতি হতো না।” এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিশেষত সুন্দরবন সংলগ্ন এই দুর্গম ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলে দ্রুত দুর্ঘটনা মোকাবিলার জন্য একটি দমকল কেন্দ্রের উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি। দমকল কেন্দ্রের অভাব যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। মানুষ মনে করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ভয়াবহতা থামানো সম্ভব নয়।