পায়ে ঝিঁঝি ধরছে? ভিটামিন বি ১২-এর অভাব নেই তো? জানুন তবে

পায়ে ঝিঁঝি ধরার অস্বস্তিকর অনুভূতি অনেকেরই পরিচিত। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলে বা পা মুড়ে বসলে এই সমস্যা সাধারণত দেখা যায়। তবে এর বাইরেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে যা প্রায়শই এই সমস্যার জন্ম দিতে পারে – ভিটামিনের ঘাটতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ভিটামিন বি ১২-এর অভাব হলে শুধু অ্যানিমিয়া, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাই নয়, পায়ে ঝিঁঝি ধরার অনুভূতিও হতে পারে। ভিটামিন বি ১২ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এটি স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যারা নিরামিষাশী, তাদের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ ভিটামিন বি ১২ মূলত প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়। এই ভিটামিনের অভাব হলে পেপটিক আলসার এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে।
শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি ১২ না পেলে মানসিক অবসাদ, চুল ও নখের দুর্বলতা, ত্বকের বিবর্ণতা এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটতে পারে। এই ভিটামিন স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। ফলে যখন শরীরে এর অভাব দেখা দেয়, তখন স্নায়ু সংবেদনে ব্যাঘাত ঘটে এবং পায়ে ঝিঁঝি ধরার মতো অনুভূতি হয়। এর পাশাপাশি শরীরে ক্লান্তিভাব এবং কোনো কাজে উৎসাহের অভাবও ভিটামিন বি ১২-এর অভাবের লক্ষণ হতে পারে। শ্বাস নিতে অসুবিধা এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াও এই ভিটামিনের ঘাটতির অন্যান্য উপসর্গ।
শরীরে ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি পূরণের জন্য নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি প্রাণিজ খাবারও গ্রহণ করা জরুরি। ডিম, মাশরুমের মতো নিরামিষ খাবারে কিছু পরিমাণে ভিটামিন বি ১২ পাওয়া গেলেও, এর প্রধান উৎস হলো প্রাণিজ খাদ্য। মাংসের মধ্যে লাল মাংস ও মুরগির মাংস, দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে দুধ, দই ও ছানা এবং বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ১২ বিদ্যমান।
তাই, যদি আপনি প্রায়ই পায়ে ঝিঁঝি ধরার সমস্যায় ভোগেন, তবে আপনার শরীরে ভিটামিন বি ১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনুন অথবা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। সুস্থ জীবনযাপন এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি ১২-এর জোগান বজায় রাখা অপরিহার্য।