‘রাজ্য টাকা দিচ্ছে না’, হাইকোর্টের বিস্ফোরক অভিযোগ, মুখ্যসচিবকে তলব করে কড়া বার্তা বিচারপতির

রাজ্যের বিভিন্ন আদালত, এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসনিক খরচ বাবদ অর্থ বরাদ্দ না করার অভিযোগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ভার্চুয়ালি এজলাসে হাজির হয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বিচারপতি সরাসরি এই বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করেন।

কীসের অভাব?

আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহুবার আবেদন করা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করছে না। এর ফলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, যেমন – ইন্টারনেট পরিষেবা, কার্টিজ, কাগজ, এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরার মতো অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। বিচারপতি দেবাংশু বসাক বলেন, সংবিধানের ২২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট ও রাজ্যের জুডিশিয়াল কাজের সমস্ত খরচ রাজ্যকেই বহন করতে হয়। কিন্তু বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও রাজ্য তা দিচ্ছে না।

বকেয়া টাকার পাহাড়

হাইকোর্ট প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নির্দিষ্টভাবে অর্থ চেয়েও তা মেলেনি। হাইকোর্ট বিল্ডিং কমিটির অনুমোদিত ৫৫টি প্রকল্পের জন্য ৫.৬৯ কোটি টাকা এবং আরও ৩০টি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রয়েছে। এমনকি, হাইকোর্টের মূল ভবনের নিচতলায় একটি মেডিক্যাল ইউনিট তৈরির জন্যেও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি, যা আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য জরুরি।

মুখ্যসচিবের আশ্বাস

মুখ্যসচিব জানান, গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট প্রশাসনের হলফনামা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে ১০.৪১ কোটি টাকা বকেয়া আছে। এ বিষয়ে তিনি সব তথ্য খতিয়ে দেখে আদালতকে জানাবেন এবং এর জন্য সাত দিনের সময় চেয়ে নেন। এরপর আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে।

জেলা আদালতগুলোর অবস্থা আরও খারাপ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এপ্রিল মাসের শুরুতে প্রাপ্য ৫ লক্ষ টাকা প্রায়শই আর্থিক বছরের শেষদিকে দেওয়া হয়, যা ১৫ দিনের মধ্যে খরচ করা সম্ভব হয় না এবং ফলে সেই টাকা ফেরত চলে যায়।

বিচারপতি এই বিষয়ে মুখ্যসচিবকে বলেন, “সংবিধানের এই অংশটা দেখুন।” এরপরই মুখ্যসচিব ‘হ্যাঁ, স্যার’ বলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।