পাহাড়ে ফিরছে হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গল সাফারি, দারুন খবর পর্যটকদের জন্য, এবার আর লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানি নয়

উত্তরবঙ্গের পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পুজোর আগেই সুখবর দিল বন দফতর। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হতে চলেছে হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গল সাফারি-র অনলাইন টিকিট বুকিং। এতে পর্যটকদের হয়রানি কমবে এবং উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণ ফিরবে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
কেন বন্ধ ছিল অনলাইন টিকিট?
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ার সফরে এসে পর্যটকদের সুবিধার জন্য জঙ্গলে প্রবেশের অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর বন দফতর হাতি সাফারির অনলাইন টিকিটও বন্ধ করে দেয়। ফলে পর্যটকদের অফলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছিল। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হওয়ায় পর্যটকদের একাংশ উত্তরবঙ্গের বদলে অন্য গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে এই পরিষেবা?
বন দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য ফের খুলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যগুলি। মনে করা হচ্ছে, ওই দিন থেকেই জলদাপাড়া ও গরুমারা জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যে হাতি সাফারির অনলাইন টিকিট বুকিং আবার চালু হবে। এর ফলে পর্যটকরা বাড়িতে বসেই টিকিট বুক করে নিশ্চিন্তে জঙ্গল সাফারির আনন্দ নিতে পারবেন।
কী বলছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা?
ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় দাস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “হাতি সাফারির অনলাইন টিকিট চালু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। এতে পর্যটকদের হয়রানি কমবে এবং উত্তরবঙ্গের পর্যটন আবার চাঙ্গা হবে।” তবে তিনি একই সঙ্গে জঙ্গলে প্রবেশের অনলাইন টিকিটও দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধু সাফারির অনলাইন টিকিট চালু হলে যথেষ্ট হবে না, কারণ পর্যটকরা পুরো ভ্রমণের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চান।
বর্তমানে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে দুটি স্থান থেকে দিনে মোট ৬০ জন এবং গরুমারা জাতীয় উদ্যান থেকে ১২ জন পর্যটক হাতি সাফারির সুযোগ পান। এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে আরও বেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, বন দফতর কবে থেকে জঙ্গলে প্রবেশের অনলাইন টিকিটও চালু করে এবং পর্যটন শিল্পকে সম্পূর্ণভাবে সচল করে তোলে।