বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণ, ১৩২ বছর পরেও প্রাসঙ্গিক কেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী স্মরণ করলেন সেই দিন

বৃহস্পতিবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৩ সালের সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দিনেই আমেরিকার শিকাগো শহরে ধর্মমহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বিখ্যাত ভাষণটি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘এক্স’ (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে বিবেকানন্দের সেই ভাষণটি শেয়ার করে লেখেন, “এটি কেবল একটি বক্তৃতা নয়, আমাদের ইতিহাসের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্ত।”

ঐতিহাসিক সেই ভাষণ:

বিবেকানন্দ তাঁর ভাষণ শুরু করেছিলেন “আমেরিকার ভাই ও বোনেরা” (“Sisters and Brothers of America…”) বলে। তাঁর এই সম্বোধন শুনে উপস্থিত প্রায় সাত হাজার মানুষ দু’মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছিলেন।

সেই ভাষণে বিবেকানন্দ ভারতের মূল আদর্শ, অর্থাৎ সহিষ্ণুতা এবং সাম্যের চেতনাকে তুলে ধরেছিলেন। তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন যে তিনি এমন একটি ধর্মের অংশ, যা কেবল সহনশীলতাই নয়, বরং সব ধর্মকেই সত্য বলে মেনে নেয়। তিনি স্মরণ করিয়েছিলেন যে কীভাবে ভারত ইহুদি ও পার্সিদের আশ্রয় দিয়েছিল, যখন তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি ধ্বংস হয়েছিল।

গীতার উদ্ধৃতি দিয়ে বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “যে কোনো পথ দিয়ে মানুষ আমার কাছে আসে, শেষ পর্যন্ত সব পথই আমাকেই নিয়ে আসে।” তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ভিন্ন ভিন্ন মত, পথ এবং বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত একটি মহাসাগরেই মিশে যায়।

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সতর্কতা:

শত বছর আগে দেওয়া এই ভাষণে তিনি ধর্মান্ধতা, হিংসা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা আর ধর্মান্ধতা এই সুন্দর পৃথিবীকে বারবার রক্তাক্ত করেছে, সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে।” একই সঙ্গে তিনি আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন যে এই সম্মেলন সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসার মৃত্যুঘণ্টা বাজাবে।

ভাষণের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা:

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এই ভাষণে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মহান আদর্শ বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপিত হয়েছিল, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া এই ভাষণ আমাদের অনন্ত প্রেরণা যোগায়।”

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান:

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাতারে হামাসের উপর ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়ে কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এই বিষয়ে ভারত সরাসরি ইজরায়েলের নাম না নিলেও, হামলার নিন্দা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের নিরপেক্ষ এবং মানবিক অবস্থানকে পুনরায় তুলে ধরে।