৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতে টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভ, রণক্ষেত্র বিধানসভা

অবিলম্বে ৫০ হাজার শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে হঠাৎ বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়ে উত্তাল হয়ে উঠলো শহরের রাজপথ। ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের এই আকস্মিক বিক্ষোভে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, বচসা ও ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভা ভবনের দিকে এগোতে থাকলে পরিস্থিতি জটিল হয়।
ধর্মতলা মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ করে বিধানসভার দিকে দৌড় দিলে পুলিশ তাদের তাড়া করে। এই সময়েই শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি। বহু আন্দোলনকারীকে পুলিশের সামনে কাকুতিমিনতি করতে এবং কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
“এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না”- ক্ষোভে ফুঁসছেন যুবসমাজ
এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। তিন বছর ধরে টেট পাস করে বসে আছি, মুখ্যমন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।” তিনি আরও বলেন, “নেপাল দেখে শিক্ষা নিন। ৫০ হাজার নিয়োগ দিন। যুবসমাজ রেগে গেলে আপনি কিন্তু রাজ্যকে আর বাঁচাতে পারবেন না।”
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেন, “পুলিশ খুব খারাপ আচরণ করেছে। আমি এর প্রতিবাদ করি।” তিনি আরও বলেন, তিনি বিধানসভায় থাকলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করতেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পাল্টা জবাব: “আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই”
অন্যদিকে, এই বিক্ষোভের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, “এটার কোনো মানে নেই। পর্ষদ সভাপতি কিছুদিন আগেই বলেছেন, খুব শিগগির ভ্যাকেন্সি লিস্ট ঘোষণা হতে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ডিপিএসসি থেকে এখনো রিপোর্ট আসেনি, তাই ৫০-৫১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে আন্দোলন করা অর্থহীন। তবে তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, জেলা স্তরে শূন্যপদ নির্ণয়ের কাজ প্রায় শেষ এবং খুব দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে।