ফোনের থেকেও সস্তা টেলিস্কোপ, এক বাঙালী যুবক আপনার ঘরে এনে দেবে চাঁদ-তারা

মহাকাশ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে গত পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। কিন্তু মহাকাশ দেখার জন্য কি বিজ্ঞানী হতে হবে? মোটেই না। কলকাতার বাঘাযতীন এলাকার একটি ছোট্ট দোকান সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। দোকানটির নাম ‘স্পেস ট্রাভেল’ – বলা যায়, এটি মহাকাশ দর্শনের টিকিট কাউন্টার!
এখানেই দেখা মেলে সুমন দত্ত নামে এক যুবকের। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দোকানে নামীদামি কোম্পানির টেলিস্কোপ, বাইনোকুলার, পেরিস্কোপ তো আছেই, সেই সঙ্গে তিনি ক্রেতাদের নিখরচায় প্রশিক্ষণও দেন। সুমন জানান, “আমি চাই সবাই যেন আকাশের চাঁদ-তারা, গ্রহ-নক্ষত্র দেখতে পারে।”
কাঁধে টেলিস্কোপ নিয়ে শুরু হয়েছিল স্বপ্নের পথ
সুমন দত্তের এই যাত্রাপথ সহজ ছিল না। এমবিএ করে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই মহাকাশের প্রতি তার টান ছিল প্রবল। সেই নেশাকেই তিনি পেশা বানিয়েছেন। ১৩ বছর আগে কাঁধে টেলিস্কোপ নিয়ে তিনি সুন্দরবন, কাকদ্বীপ, নামখানা-র মতো দূরবর্তী অঞ্চলে যেতেন, সেখানকার শিশুদের বিনামূল্যে আকাশ দেখাতেন। বহু স্কুল তার এই উদ্যোগে সাড়া না দিলেও, হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে বারুইপুরের একটি স্কুল প্রথম তার জন্য দরজা খুলে দেয়।
বয়স এখানে কোনো বাধা নয়
সুমন জানান, তার দোকানে সব বয়সের ক্রেতা আসেন। ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ চিকিৎসক যেমন টেলিস্কোপ কিনে নিয়ে গেছেন, তেমনই ক্লাস টু-থ্রির বাচ্চারাও আসে। তিনি বলেন, মহাকাশ দেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়, কেবল আগ্রহটাই আসল।
মানুষের ধারণা, টেলিস্কোপের দাম অনেক বেশি। কিন্তু সুমন সেই ভুল ভেঙে দেন। তিনি জানান, মাত্র সাড়ে ৫ হাজার টাকায় একটি বেসিক টেলিস্কোপ পাওয়া যায়, যা দিয়ে চাঁদকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। একটি ভালো স্মার্টফোনের দাম দিয়ে দু’টি টেলিস্কোপ কেনা সম্ভব।
চাকরি ছেড়ে নতুন দিগন্তে
স্থায়ী চাকরি ছেড়ে এই ব্যবসায় আসার সিদ্ধান্তটি সুমনের জন্য কঠিন ছিল, কিন্তু পরিবারের পূর্ণ সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে তার স্ত্রী তাকে এই পথে চলতে উৎসাহিত করেন। এখন তার স্বপ্ন কলকাতার উত্তরে এবং মধ্য কলকাতায় আরও দুটি স্টোর খোলা।
সুমন বলেন, এই ব্যবসা শুধু বাক্স বিক্রির নয়, এটি শিক্ষার ব্যবসা। তার মতে, মহাকাশ বিজ্ঞান আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত। তাই প্রত্যেকেরই এই বিষয়ে আগ্রহ থাকা উচিত। তিনি চান, শহরের মানুষ যেন মাথা তুলে আকাশ দেখতে শেখে, এবং প্রযুক্তিকে কেবল বিনোদনের জন্য নয়, শিক্ষার জন্যও ব্যবহার করে।