কবির ছবি পায়ের কাছে রেখে বিতর্কে বিজেপি নেতা! তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষের মুখে সুকান্ত মজুমদার

সম্প্রতি মালদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর অভিযোগ নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েই বিতর্কে জড়ালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বিরুদ্ধে পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি রাখার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
মালদহের চাঁচল কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছবি পুড়িয়েছে, এই অভিযোগে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল নৈহাটিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিজেপি। অভিযোগ উঠেছে, সেই সভার মঞ্চের সামনে নিচে রাখা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। অর্থাৎ, সুকান্ত মজুমদার যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন তাঁর পায়ের কাছেই ছিল বাঙালি আবেগ ও সংস্কৃতির এই দুই স্তম্ভের ছবি।
তৃণমূল কংগ্রেস এই ছবি পোস্ট করে সুকান্তকে তীব্র আক্রমণ করেছে। তাদের ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, “কোটি কোটি বাঙালি যাঁকে হৃদয় মাঝে রাখে, সেই প্রাণের কবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিকে নিজের পদতলে রাখার মতো গর্হিত অপরাধ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।” তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও এই ছবিটি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দিল্লির নেতাদের খুশি করতে গিয়ে বিজেপি বাঙালি সংস্কৃতির অপমান করছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস মালদহের ঘটনার অভিযুক্তকে বহিষ্কার এবং চাঁচল কলেজের ইউনিট ভেঙে দিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে। অভিযুক্ত নাসিমুল হক ওরফে সোয়েলকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু এই বিতর্কের পর এখন বিজেপির দিকেই আঙুল তুলছে শাসক দল। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগকে সম্মান জানানো নিয়ে দু’দলের এই লড়াই কোথায় গিয়ে থামবে।