মোবাইল ফোনের কারণে পরিবারে বাড়ছে দূরত্ব, আত্মহত্যা রুখতে অভিভাবকদের জন্য জরুরি বার্তা এলাহাবাদ হাইকোর্টের

মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পরিবারে পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ মানসিকভাবে একা হয়ে পড়ছে এবং আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথে ঝুঁকছে। সম্প্রতি এমনটাই মন্তব্য করেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শেখর যাদব।

বুধবার আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমাজের ভূমিকা নিয়ে একটি সেমিনারে বিচারপতি শেখর যাদব এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাবা-মায়েদের উচিত নয় সন্তানের উপর কোনো চাপ তৈরি করা। জোর করে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর বদলে তাদের নিজেদের মতো করে পেশা বেছে নিতে দেওয়া উচিত।

বিচারপতি অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, “সন্তানকে কখনওই অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ঈশ্বর তাদের সন্তান দিয়েছেন, কারণ অনেকের কোনো সন্তান নেই। তাই সন্তানের দুর্বলতা বা অন্য কারও থেকে কম মনে করা উচিত নয়। এর ফলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিচারপতি যাদব আরও বলেন, “সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে দেবেন না।” তিনি পরামর্শ দেন, সন্তানের আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, অন্যথায় পরে দেখা যাবে সে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইআইআইটি-প্রয়াগরাজের অধ্যাপক অনুপম আগরওয়াল জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ুয়াদের উপর প্রচুর চাপ তৈরি হয়। এর ফলে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মানসিক সমস্যা এবং পারিবারিক ঝামেলার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে।