কম্পিউটার থেকে অনুবাদক— বাংলা ভাষার প্রসারে কোমর বেঁধে নামল রাজ্য সরকার, জারি হলো কড়া নির্দেশিকা

রাজ্য প্রশাসনে বাংলা ভাষার ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে এবার পুরোদমে আসরে নামল নবান্ন। শনিবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে বাংলা ভাষার উপযোগী পরিকাঠামো দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। গত ৩১ অগস্ট সরকারের জারি করা বিস্তারিত নির্দেশিকাটি প্রতিটি দপ্তরে পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

নবান্নের মেগা পরিকল্পনা ও রূপরেখা

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরই প্রশাসনিক স্তরে বাংলার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেইমতো গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্তরে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার চালুর কথা বলা হয়। তবে রাতারাতি এই বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে, গোটা কাজটিকে ধাপে ধাপে রূপায়ণ করার রূপরেখা তৈরি করেছে নবান্ন।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি রাজ্যস্তরীয় পরিচালন সমিতি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা ও দপ্তরে আলাদা করে বাস্তবায়ন কমিটিও তৈরি করা হচ্ছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি জারির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি দপ্তরকে একটি প্রাথমিক সমীক্ষা শেষ করতে হবে— যেখানে দপ্তরে বাংলা জানা কর্মীর সংখ্যা, কম্পিউটারে বাংলার ব্যবহার এবং অনুবাদকের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা হবে।

অনলাইন থেকে অফলাইন— সব কাজেই জোর বাংলাতেই

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্রকে (এনআইসি) সমস্ত সরকারি ওয়েবসাইট বাংলার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদান, সরকারি বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ এবং পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যাবতীয় কাজ এখন থেকে বাংলাতেই সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কাজের সুবিধার জন্য পরিভাষা ও শব্দকোষ তৈরিতে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

তবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। হিন্দি, নেপালি, সাঁওতালি, রাজবংশী, কামতাপুরী, কুরমালি ও কুরুখের মতো ভাষাগুলিকেও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় স্তরে সরকারি জনসংযোগ ও পরিষেবা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।