“ভোট কিনতে ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ!”-উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক

দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণ। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রার্থী বি সুদর্শন রেড্ডিকে ১৫২ ভোটে পরাজিত করে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু ভোটের ফলাফল সামনে আসার পরেই বিরোধী শিবিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। কারণ, বিচারপতি রেড্ডির ঝুলিতে ১৫টি ভোট কম পড়েছে, যা নিয়ে ক্রস-ভোটিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কেনার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বিজেপি প্রতিটি ভোট কেনার জন্য ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে। তিনি বলেন, “আমি ৪-৫ জনের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, একেক জনের ভোট কিনতে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।” ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ আরও কটাক্ষ করে বলেন, “বিক্রি হয় পণ্য বা দ্রব্য, মানুষের আবেগ, ভালবাসা বিক্রি হয় না। জনপ্রতিনিধি বিক্রি হতে পারে, জনতা বিক্রি হয় না।”

তিনি অবশ্য নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে, ক্রস-ভোটিং হয়েছে নাকি বিরোধী শিবিরের কিছু ভোট বাতিল হয়েছে। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু রাজনৈতিক দলের সাংসদ, বিশেষ করে আম আদমি পার্টির মতো দলের সাংসদরা সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। তিনি এক মহিলা আপ সাংসদের কথাও উল্লেখ করেন, যিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংসদই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের ৪১ জন সাংসদই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি অসুস্থ থাকার পরও সৌগত রায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট দিতে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।

এই ফলকে বিজেপি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভাঙন হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধীরা পাল্টা টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগ এনেছেন। এই পরিস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আরও একবার সামনে এনেছে।