ইন্ডিয়া জোটে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ গুঞ্জন, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আপ-কে দুষলেন অভিষেক

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিংয়ের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। এনডিএ শিবির থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন প্রত্যাশার চেয়ে ১৪টি ভোট বেশি পেয়েছেন। এই ঘটনায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ভাঙনের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। এবার এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনায় তৃণমূলের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তৃণমূলের সব ভোটই ‘ইন্ডিয়া’ জোটে
বুধবার কলকাতায় ফিরে অভিষেক বলেন, “উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সকল সাংসদই উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়ের মতো সাংসদরা ভোট দিয়েছেন।” তিনি দাবি করেন, বসিরহাটের সাংসদ হাজী নূরুলের মৃত্যুর পর তাদের বর্তমান ৪১ জন সাংসদের সকলেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডিকে ভোট দিয়েছেন।
আপ এবং বিজেপি-কে আক্রমণ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করলেও গোপন ব্যালটের কারণে এর সঠিক সংখ্যা বলা অসম্ভব বলে জানান। তবে তিনি আম আদমি পার্টি (আপ)-এর একাংশ সাংসদের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সরাসরি সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। তার মতে, “কিছু দল রয়েছে যারা নামেই আপে আছে, কিন্তু বিজেপিতে যাওয়ার জন্য তৈরি।”
এরপরেই বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “ওরা টাকার বস্তা নিয়ে ভোট কিনতে নেমেছিল। একজনের ভোট কিনতে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।” তার মতে, জনপ্রতিনিধিরা বিক্রি হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ বিক্রি হয় না।
নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান
নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও অভিষেক তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই নেপাল নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী গতকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন। আমরা শান্তির পক্ষে এবং চাই নেপালের পরিস্থিতি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শান্ত হোক। যেহেতু এটি অন্য দেশের বিষয়, তাই কেন্দ্রীয় সরকার বা বিদেশ মন্ত্রক যে অবস্থান নেবে, দলগতভাবে আমরা সেটাই সমর্থন করব।”