পিরিয়ড নিয়ে লুকোচুরি নয়, সমস্যা হলেই নিন ডাক্তারের পরামর্শ! জানুন এক্ষুনি

আমাদের দেশে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মেয়ে পিরিয়ড সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এদের অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী রক্তাল্পতা (ক্রনিক অ্যানিমিয়া) সহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

তবে আশার কথা এই যে, উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক রোগ শনাক্ত করা যাচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন সদ্য কিশোরীরা এবং ৪০ বছরোর্ধ্ব মহিলারা।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরী বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়ার সময় এবং ৪০ বছর বয়সের পর মেনোপজের পূর্বে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এই হরমোনের তারতম্যের কারণেই মূলত অতিরিক্ত রক্তস্রাবের (ব্লিডিং) সমস্যা বাড়ে।

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্লিডিংয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ:

জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা টিউমার: জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা টিউমারের উপস্থিতি অতিরিক্ত রক্তস্রাবের একটি অন্যতম কারণ।
ডিম্বাশয়ের সমস্যা: ওভারিতে কোনো সমস্যা থাকলে ডিম্বাণু নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে প্রোজেস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমে গিয়ে অতিরিক্ত ব্লিডিং হতে পারে।
জরায়ু লাইনিংয়ে পলিপ: জরায়ুর ভেতরের স্তরে (এন্ডোমেট্রিয়াম) ক্যান্সারবিহীন পলিপ তৈরি হলেও অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
এন্ডোমেট্রিয়ামের সমস্যা: জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামের অস্বাভাবিকতাও অতিরিক্ত ব্লিডিংয়ের কারণ হতে পারে।
জন্ম নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস (আইইউডি): জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস (আইইউডি) ব্যবহার করলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত রক্তস্রাব হতে পারে।
সারভিক্সে সংক্রমণ: জরায়ুমুখের (সারভিক্স) সংক্রমণও রক্তপাতের কারণ হতে পারে।
গর্ভপাত: গর্ভপাতের কারণেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ক্যানসার: জরায়ু ও সারভিক্সের ক্যানসার হলেও অতিরিক্ত ব্লিডিং একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
বিরল রক্তের রোগ: কিছু বিরল রক্তের রোগেও অনেক সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব হতে পারে।
ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: হরমোন ওষুধ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্লিডিংয়ের ঝুঁকি থাকে।
লিভার ও কিডনির অসুখ: লিভার ও কিডনির জটিল রোগেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই পিরিয়ড সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব এবং জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো যায়।