মর্মস্পর্শী খবর, ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবল, সাপ ধরে হাসপাতালে এল পরিবার, কিন্তু শেষরক্ষা হল না

ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবলে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হলো ৫০ বছর বয়সী বসির খানের। এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর থানার তুল্লা গ্রামে। আশ্চর্যজনকভাবে, রোগীর পরিবার সাপটিকে ধরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তাতেও বাঁচানো গেল না বসিরকে।

সাপ ধরে সোজা হাসপাতাল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসির খান প্রতিদিনের মতো সোমবারও তার বাড়ির উঠোনে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি সাপ তার বাঁ হাতের আঙুলে ছোবল দিলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে সাপটিকে দেখতে পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ধরে একটি বালতির মধ্যে ভরে রাখে। এরপর তারা বসির খানকে নিয়ে দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলে আসে।

চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়ে রোগীর পরিবার সাপটিকেও একটি গামছা দিয়ে জড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে। গামছা সরিয়ে চিকিৎসকরা দেখেন, সেটি একটি কালাচ সাপ। এই সাপটির বিষ খুবই মারাত্মক।

চিকিৎসকদের বক্তব্য
চিকিৎসকরা জানান, কালাচ বা ডোমনা চিতি সাপ অত্যন্ত বিষাক্ত। এদের বিষ দ্রুত মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দেয়। অনেক সময় দংশনের পর রোগী প্রথমে কিছু অনুভব করতে পারেন না, ফলে চিকিৎসার জন্য মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।

সাপ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও রাজ্য সমন্বয় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি অর্ণব দাস বলেন, “সাপে কাটা অনেক রোগীর মৃত্যু হয় শুধুমাত্র ভুল ধারণা এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে। সাপে ছোবল দিলে ১০০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।” তিনি আরও বলেন, এখন চিকিৎসকরা উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা শুরু করে দেন, তাই সাপ ধরে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি ওঝার কাছে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তবে রোগীর প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

মৃতের আত্মীয় হোসেন খান বলেন, “আমরা সাপটাকে চিকিৎসকদের দেখাতে চেয়েছিলাম, যাতে সঠিক চিকিৎসা হয়। সেই মতো তার চিকিৎসা শুরু হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।”