ভয়াবহ! মাঝ রাস্তায় তরুণীকে পুড়িয়ে মারল প্রেমিক! মেয়ের চিৎকারে হাসপাতালে ছুটলেন বাবা

উত্তর প্রদেশের ফররুখাবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৩৩ বছর বয়সী বিবাহিত মহিলা নিশা সিংহকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে দীপক নামে এক যুবক, যে দীর্ঘদিন ধরে নিশাকে উত্যক্ত করে আসছিল। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিশা সম্প্রতি তাঁর বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি স্কুটি চালিয়ে এক ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন। পথে অভিযুক্ত দীপক তাঁর পথ আটকায় এবং কথা বলার জন্য জোর করে। নিশা বাধা দিলে তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। এরপরই দীপক তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নিশার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পালিয়ে যায়।
আগুনে পুড়ে চরম যন্ত্রণার মধ্যেই নিশা স্কুটি চালিয়ে নিকটবর্তী ডাক্তারের চেম্বারে পৌঁছান। সেখান থেকে ডাক্তারের ফোন পেয়ে ছুটে আসেন তার বাবা বলরাম সিং। তিনি বলেন, “আমি গিয়ে দেখি মেয়ে জ্বলন্ত অবস্থায় ছটফট করছে আর চিৎকার করে বলছে, ‘পাপা, আমাকে বাঁচাও, দীপক আগুন দিয়েছে!’”
নিশার বাবা বলরাম সিং এবং স্বামী অমিত চৌহান জানান, নিশা এই উত্যক্ত করার বিষয়টি পরিবারের কারও কাছেই প্রকাশ করেননি। নিশার বোন নীতু সিং জানান, তিনি সবটা জানতেন, কিন্তু মা-বাবাকে জানাতে বারণ করেছিলেন। নীতু বলেন, “নিশা বলত, দীপক তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত এবং কথা বলার জন্য ক্রমাগত চাপ দিত।” একই কথা বলেন নিশার স্বামী অমিত চৌহান, “আমি আগের রাতেও ওর সাথে কথা বলেছি, কিন্তু ও কিছুই জানায়নি।” নিশার এই নীরবতাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ হয়ে রইল।
আগুনে ঝলসে যাওয়া নিশাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে সেখান থেকে লোহিয়া হাসপাতাল এবং তারপর সাইফাই হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। নিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের ধরতে ইতিমধ্যেই চারটি দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এই ঘটনাটি উত্তর প্রদেশে নারী নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।