স্ত্রী কি ভোডাফোনের সেই ‘পাগ’ কুকুর যে পিছু পিছু ঘুরবে? ১৬ বছর আলাদা থাকার পর বিবাহবিচ্ছেদের ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

পেশাগত কারণে স্বামী দূরে থাকলেই কি স্ত্রীকে ছায়ার মতো সবসময় পাশে পাওয়া সম্ভব? নাকি স্বামীর প্রতিটি পদক্ষেপে ভোডাফোনের সেই বিখ্যাত বিজ্ঞাপনের ‘পাগ’ কুকুরের মতো স্ত্রীরও পিছু নেওয়া উচিত? ষোলো বছর ধরে আলাদা থাকা এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ মামলার রায় দিতে গিয়ে এমনই এক কৌতূহলোদ্দীপক ও যুগান্তকারী মন্তব্য করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পারিবারিক আদালতের রায় খারিজ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্বামী চাকরি সূত্রে বাইরে গেলে স্ত্রীকে সবসময় সঙ্গে রাখা বা স্ত্রীর কাছ থেকে ওই কুকুরের মতো আচরণ আশা করা অবাস্তব।
১৯৯২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হিন্দু রীতি মেনেই ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের চার সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে স্বামী জীবিকার টানে মুম্বইয়ে চলে যান এবং সেখানে চাকরি শুরু করেন। এর পরই দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০১৪ সালে স্বামী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করে অভিযোগ তোলেন যে তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছেন। সেই সময় পারিবারিক আদালত স্বামীর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের যুক্তি ছিল, স্বামী নিজে কাজের সূত্রে বাইরে থাকায় স্ত্রীকে একা ফেলে রেখেছিলেন, তাই তিনি এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারেন না। এছাড়া প্রত্যেক স্বামীরই কর্তব্য যেখানেই যান না কেন স্ত্রীকে সঙ্গে রাখা—এমন মন্তব্যও করেছিল নিম্ন আদালত।
পারিবারিক আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্বামী। বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন ও এমডি সুমথির ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সেই ‘বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি’র তীব্র সমালোচনা করে। রায়ে আদালত পরিষ্কার ভাষায় জানায়, কট্টর নারীবাদীরা হয়তো নিম্ন আদালতের এই রায়কে বাহবা দেবেন, কিন্তু বাস্তবসম্মতভাবে তা মেনে নেওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ আদালত বলে, একজন সেনা জওয়ানকে যেমন ব্যারেকে পরিবার নিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তেমনই স্ত্রীও লাভজনক চাকরি বেছে নিতে পারেন। তাঁর কাছ থেকে ভোডাফোনের বিজ্ঞাপনের পাগ কুকুরের মতো আচরণ আশা করা যায় না।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকায় তাঁদের সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আর মেরামত করার জো নেই। উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতা এতদূর গড়িয়েছিল যে আপস মীমাংসার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিচার করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ১৬ বছরের দাম্পত্যের আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে আদালত স্ত্রীকে এককালীন ৭ লক্ষ টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বামীকে, আর এই অর্থ পরিশোধের পরেই ডিভোর্সের ডিক্রি পুরোপুরি কার্যকর হবে।