এক ক্লিকেই চাঁদের পাহাড় থেকে আদর্শ হিন্দু হোটেল, ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ হচ্ছে বিভূতিভূষণের সব সৃষ্টি

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পড়তে এখন আর কোনো বাধা থাকবে না। তাঁর সমস্ত সৃষ্টি, চিঠি, পাণ্ডুলিপি ও অপ্রকাশিত লেখা খুব শীঘ্রই ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষিত হতে চলেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ কালচারাল টেক্সট অ্যান্ড রেকর্ডস বিভাগের উদ্যোগে এই কাজ শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সাহিত্যপ্রেমী ও গবেষকরা খুব সহজেই বিভূতিভূষণের অমূল্য সম্পদ হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন।

বিভূতিভূষণের নাতি তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “পথের পাঁচালীর পাণ্ডুলিপি অনেক আগেই ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে দেওয়া হলেও তা সহজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। অনেকেই অভিযোগ করেন, এই পাণ্ডুলিপি হাতে পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এতে সাধারণ পাঠকের কোনো সুবিধা হয় না।” তাই তিনি মনে করেন, বিভূতিভূষণের সাহিত্য বাঙালির সম্পত্তি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাহিত্যপ্রেমীরা এখন সহজেই তাঁর লেখালেখি নিয়ে গবেষণা ও চর্চা করতে পারবেন।

বাড়ি সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগ
শুধুমাত্র সাহিত্যকর্ম নয়, বিভূতিভূষণের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়িটিও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনগাঁ-গোপালনগরের কাছে বারাকপুরের এই বাড়িটি বর্তমানে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত। কিন্তু যথাযথ পরিচর্যার অভাবে বাড়িটির অবস্থা বেশ খারাপ। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে এর সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে বিভূতিভূষণের অমর সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরণ্যক’ বা ‘চাঁদের পাহাড়’ থিমের টি-শার্ট, পুতুল, টেবিলক্লথ এবং অন্যান্য জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বাড়িটির সংস্কারের কাজে লাগানো হবে।

জন্মদিনে নতুন উদ্যোগ
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বিভূতিভূষণের জন্মদিন উপলক্ষে আরও কিছু নতুন জিনিস তাঁর বারাকপুরের বাড়িতে রাখা হবে। তৃণাঙ্কুরবাবু বলেন, “অনেকেই সেখানে গিয়ে স্মৃতি হিসেবে কিছু নিয়ে আসতে চান। তাই পথের পাঁচালী বা আরণ্যকের খসড়ার হুবহু অনুলিপি বা ফ্রিজ ম্যাগনেটের মতো কিছু জিনিস সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রচার ও পরিচর্যার অভাবে অনেকেই ভুলে গেছেন যে বিভূতিভূষণের এই গ্রামই আসলে ‘পথের পাঁচালী’-র অপু-দুর্গার গ্রাম। আমরা কেবল এই পীঠস্থানের সেবায়েত। এই উত্তরাধিকার আমাদের একা নয়, সমগ্র বাঙালির।”