শাশুড়িকে ট্রেনে তুলতে গিয়ে সর্বনাশ, রামপুরহাট স্টেশনে সোনার চেন খোয়ালেন জামাই, ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রীরা

শাশুড়িকে ট্রেনে তুলে দিতে গিয়ে সোনার গয়না ছিনতাইয়ের শিকার হলেন জামাই। রামপুরহাট স্টেশনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। যাত্রীদের অভিযোগ, জিআরপি (GRP) পুলিশের নিস্ক্রিয়তার কারণেই রামপুরহাট স্টেশনে ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার সকালে প্রাথমিক শিক্ষক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শাশুড়িকে রামপুরহাট-অন্ডাল ট্রেনে তুলে দিতে স্টেশনে যান। ভিড়ের মধ্যে কোনোক্রমে শাশুড়িকে ট্রেনে ওঠাতে গেলে পিছন থেকে তাঁর গলার সোনার চেন ছিনতাই করে দৌড়ে পালায় এক দুষ্কৃতী। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যান বাপ্পাদিত্য। তিনি জানান, “কাছেই পুলিশ ছিল, কিন্তু তারা একেবারে নিষ্ক্রিয়। সিসিটিভিও আছে, কিন্তু রেল পুলিশের কথায় সেটাও অকেজো।”

বাপ্পাদিত্যর অভিযোগ, স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। মাত্র একদিন আগেই তাঁর ভাইপোর মানিব্যাগ ছিনতাই হয় এই স্টেশন থেকে। মাসখানেক আগে একই দিনে দুই যাত্রীর মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। এক ভুক্তভোগী সেন্টু মণ্ডল জানান, “নতুন মোবাইল খোয়া যাওয়ার পর জিআরপি-তে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।”

এ বিষয়ে জিআরপি ওসি নিত্যরঞ্জন দাস অবশ্য কর্মীদের অভাবকে দুষছেন। তিনি বলেন, “যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সিসিটিভি রয়েছে। কিন্তু ফুলের গাছে সিসিটিভি ঢেকে গিয়েছে। আমি নতুন এসেছি। আমরা আরও সতর্ক হব।”

অন্যদিকে, যাত্রীদের একাংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চরম অব্যবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে দুষ্কৃতীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে রামপুরহাট স্টেশন ‘ছিনতাই স্টেশন’-এর বদনাম বয়ে বেড়াবে