সোমবার সকালে প্রয়াত হলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদক সঙ্কর্ষণ ঠাকুর। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৩ বছর বয়সে তার জীবনাবসান হয়। রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় তার অসামান্য দক্ষতা তাকে পাঠক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
সঙ্কর্ষণ ঠাকুর ১৯৬২ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এম জে আকবর-এর তত্ত্বাবধানে ‘সানডে টাইমস’-এ। পরবর্তীতে তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, তেহেলকা এবং দ্য টেলিগ্রাফের মতো একাধিক স্বনামধন্য সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সত্যনিষ্ঠা তাকে সাংবাদিক হিসেবে এক বিশেষ স্থান দিয়েছিল। তিনি কার্গিল যুদ্ধ কভার করে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন, যা ভারতের রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে তার গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয় বহন করে।
সত্তরের দশকে বিহারে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। এই আন্দোলনই লালুপ্রসাদ যাদব ও নীতিশ কুমারের মতো নেতাদের উত্থানের পথ তৈরি করে। সঙ্কর্ষণ ঠাকুর এই দুই রাজনীতিবিদকে নিয়ে বেশ কয়েকটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই লিখেছেন, যেমন:
‘সাবঅলর্টান সাহেব: দ্য মেকিং অফ লালু যাদব’
‘সিঙ্গল ম্যান: দ্য লাইফ অ্যান্ড টাইমস অফ নীতীশ কুমার’
‘দ্য ব্রাদার্স বিহারী’ (এই দুই নেতাকে নিয়ে লেখা)
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন
তার প্রয়াণে ভারতের প্রেস ক্লাব গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, “আমরা একজন প্রতিবাদী চরিত্রকে হারালাম। সাংবাদিক মহল তার অভাব অনুভব করবে।” বিশিষ্ট সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই তাকে একজন ‘প্রকৃত সাংবাদিক’ এবং ‘অন্যতম সেরা সহকর্মী ও লেখক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি-সহ আরও অনেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।