চন্দ্রগ্রহণ মানেই কুসংস্কার নয়, টেলিস্কোপে চোখ রেখে বিজ্ঞানের জয় উদযাপন

ছোটবেলায় আমরা অনেকেই রাহু-কেতু নামক দুই রাক্ষসের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের গল্প শুনেছি। এই কুসংস্কারটি আজও সমাজে প্রচলিত। কিন্তু বিজ্ঞান অনেক আগেই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই ঘটনাগুলো মহাজাগতিক এবং এর পেছনে কোনো রাক্ষসের ভূমিকা নেই। চন্দ্রগ্রহণের আসল কারণ হলো, পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝে চলে আসে, তখন সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না, ফলে চাঁদকে দেখা যায় না। এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে এবং কুসংস্কার দূর করতে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ (West Bengal Vigyan Manch) এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বা ‘ব্লাড মুন’ খালি চোখে দেখার জন্য কলকাতা এবং তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। যাদবপুর, বাঘাযতীন, কসবা, তিলজলা, ঢাকুরিয়া, বেহালাসহ বিভিন্ন জায়গায় এই শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ, বিশেষত ছাত্রছাত্রীরা, কুসংস্কারের বাধা উপেক্ষা করে টেলিস্কোপে চোখ রেখেছিল। এই শিবিরগুলো কোথাও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, কোথাও স্কুল কর্তৃপক্ষ, আবার কোথাও বিভিন্ন ক্লাব কর্তৃপক্ষ দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল।
চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন খাবার ও জল পান করা নিষেধ, এমন প্রচলিত কুসংস্কারকে ভুল প্রমাণ করার জন্য এই শিবিরগুলিতে চা, বিস্কুট, মুড়ি এবং রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। চন্দ্রগ্রহণের সময় খাবার খেলে বা জল পান করলে কোনো ক্ষতি হয় না, তা সকলে একসঙ্গে খাবার খেয়ে প্রমাণ করে দেখান। এছাড়া, গঙ্গা স্নান করা, রান্না করা খাবার ফেলে দেওয়া, এই ধরনের কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন, তাও প্রচার করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের এই উদ্যোগের মূলমন্ত্র হলো ‘বিশ্বাসে নয়, যুক্তিতর্কে মুক্তি’। তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় সংস্থাটি অংশগ্রহণকারী সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।