মতুয়া ইস্যু এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যেই ক্যামাক স্ট্রিটে জেলা নেতাদের নিয়ে বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ফের জেলাভিত্তিক বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর কার্যালয়ে বনগাঁ, দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বদের নিয়ে তিনি আলোচনায় বসেছেন। সম্প্রতি যখন মতুয়া ইস্যুতে দলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিচ্ছে, তখন এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কী নিয়ে আলোচনা হবে?
দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকে নির্দিষ্ট এলাকার বিধায়ক থেকে শুরু করে শাখা সংগঠনের নেতাদের প্রত্যেকেরই উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বৈঠক শুরু হয়, এবং দুপুর দেড়টা থেকে শুরু হয় দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বৈঠক।

এই দুটি জেলারই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এখানে বিজেপির প্রভাব বেশি। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে প্রায়শই ‘সিদ্ধান্ত’ বা কৌশল নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বড় দলে মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। এবার সেই ভিন্ন মতকে সামাল দিয়ে এই বৈঠকে কোন্দল রুখতে অভিষেক কী বার্তা দেন, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।

মতুয়া ইস্যু
অভিষেকের আজকের জেলাওয়াড়ি সাংগঠনিক বৈঠকে বনগাঁর নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন। সম্প্রতি, মতুয়াদের প্রসঙ্গে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মতুয়াগড় ঘিরে তৃণমূলের মধ্যেই বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল আরেক তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। সেই চিঠিতে মহুয়াকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময়ও বেঁধে দেন মতুয়ারা। এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই বনগাঁর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন অভিষেক।