অলিম্পিক্সে হতাশ হলেও প্যারালিম্পিক্সে সাফল্যের নেপথ্যে কে? কলকাতায় এসে আসল কারণ জানালেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া

প্যারিস অলিম্পিক্সে ভারতীয় অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলেও, প্যারালিম্পিক্সে এসেছে দেশের সর্বকালের সেরা সাফল্য। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে যার অবদান অনস্বীকার্য, সেই তারকা প্যারা-জ্যাভলিন থ্রোয়ার দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া সম্প্রতি কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এসে সাফল্যের রহস্য ফাঁস করলেন। তিনি জানান, প্রত্যেক ভেন্যুতে গিয়ে অ্যাথলিটদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন, আর তাতেই এসেছে এই সাফল্য।

বর্তমানে দেশের প্যারালিম্পিক্স কমিটির প্রেসিডেন্ট দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া। ২০০৪ সালের এথেন্স প্যারালিম্পিক্সে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জয়ী এই অ্যাথলিট জানালেন, প্যারিসের সাফল্যের রেশ ধরে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্সের জন্যও তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা রয়েছে। তার কথায়, “আগেরবার আমরা ২৯টি পদক জিতেছিলাম। এবার চোখ বন্ধ করে সেই সংখ্যাটা ৪০ স্পর্শ করবে।”

ঝাঝারিয়া আরও জানান, তৃণমূল স্তর থেকে প্যারা-অ্যাথলিট তুলে আনার জন্য তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু লস অ্যাঞ্জেলস নয়, ২০৩২ এবং ২০৩৬ সালের প্যারালিম্পিক্সের জন্যও তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

সম্প্রতি জেবিজি কলকাতা ম্যারাথনের একটি অনুষ্ঠানে এসে দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “এশিয়ান গেমসে শুধু অ্যাথলেটিক্স থেকেই ভারত ৫০টিরও বেশি পদক জিততে পারে। আমি নিশ্চিত, এবার আমরা ১১১টির বেশি পদক জিতব।”

একসময় তারকা জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ার সঙ্গে অনুশীলন করতেন দেবেন্দ্র। একসময়ের সতীর্থের সাফল্যে গর্বিত হয়ে তিনি বলেন, “নীরজ ভালো অ্যাথলিট তো বটেই, তার চেয়েও ভালো মানুষ। আমি নিশ্চিত ও অনেক দূর যাবে। এবার থেকে নিয়মিতভাবে ৯০ মিটার জ্যাভলিন ছুড়বে বলে আমার বিশ্বাস।”

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ নভেম্বর রেড রোড থেকে শুরু হবে দশম বর্ষের কলকাতা ম্যারাথন, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।