৭৪ মিনিট ধরে সূর্যগ্রহণ, অসাধ্য সাধন করেছিলেন বিজ্ঞানীরাই! কীভাবে? জানুন সেই ইতিহাস!

১৯৭৩ সালের ৩০ জুন সাহারা মরুভূমির আকাশে ঘটেছিল এক অসাধারণ ঘটনা—৭৪ মিনিটের এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। সাধারণত সর্বোচ্চ ৭ মিনিট স্থায়ী হয় এই ধরনের গ্রহণ। কিন্তু বিজ্ঞানীরা একটি সুপারসনিক বিমানকে ব্যবহার করে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি সম্ভব হয়েছিল কনকর্ড ০০১ নামের একটি বিমানের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানীদের ভাবনা ছিল, যদি চাঁদের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো বিমানকে উড়ানো যায়, তাহলে সূর্যগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই কনকর্ড ০০১-কে বিশেষভাবে গবেষণা উপযোগী করে তোলা হয়। বিমানটির ছাদে একটি পর্যবেক্ষণ জানালা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছিল। এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার গতিতে ১৬,০০০ মিটার উচ্চতায় উড়ছিল, যা মেঘ এবং বায়ুমণ্ডলের বাধা অতিক্রম করে স্পষ্ট পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেয়।
এই ৭৪ মিনিটে পাঁচটি বৈজ্ঞানিক দল সূর্যের করোনা এবং ক্রোমোস্ফিয়ার নিয়ে গবেষণা করেন। তারা সূর্যের বাইরের স্তরগুলোর তাপমাত্রা, গঠন ও চুম্বকত্ব সম্পর্কিত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন। বিশেষত, সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়ে করোনা কেন শতগুণ বেশি উত্তপ্ত, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এটি ছিল এক দারুণ সুযোগ।
এই অভিযানটির সাফল্য ছিল বিজ্ঞানীদের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং পাইলটের দক্ষতার ফল। পদার্থবিদ ডোনাল্ড লিভেনবার্গ এই ঘটনাকে তার জীবনের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তার নাম আজও সবচেয়ে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষকারী গবেষকদের তালিকায় শীর্ষে আছে। এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে যে, আকাশপথে বা মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে। পরবর্তীতে নাসা একই উদ্দেশ্যে তাদের WB-57 বিমান ব্যবহার করে। এছাড়াও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ ঘটানোর জন্য Proba-3 মিশন তৈরি করছে।