বিগ বসের রাতে মাঝপথে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অনিন্দ্য! সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ফেলা আসল ঘটনাটি কী?

জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরমহলে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ক্যাপ্টেন ভরত কলের কঠোর নির্দেশ মেনে ঘরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে প্রথম দুনিয়ার লাক্সারি বাজেট টাস্ক এবং মূল ঘরে ফেরার লড়াই। লাক্সারি বাজেট অর্জন এবং বিগ বসের মূল ঘরে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ডাগহাউসে থাকা প্রতিযোগীদের রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। বর্তমানের এই পর্বে ডাগহাউসে বন্দি রয়েছেন দুর্নিবার সাহা, দীপেন্দু বিশ্বাস, ঝিলাম গুপ্ত, সোহিনী পাল, তনুশ্রী রায় দাস এবং জয়িতা চ্যাটার্জি। সারাদিন ধরে কখনো নোংরা পরিষ্কার করা, কখনো কৃত্রিম রাস্তা মেরামত করা, আবার কখনো মাঝরাতে টানা চাকা ঘুরিয়ে আলো জ্বালানোর মতো কঠিন সব কাজ সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন তাঁরা। ভরত কল সহ বিগ বসের মূল ঘরের অন্যান্য সদস্যরা পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোরভাবে তত্ত্বাবধান করেছেন।

তবে এই সমস্ত কর্মব্যস্ততা ও উত্তেজনার মাঝেও এক অভাবনীয় কান্ড ঘটিয়ে বসেছেন অভিনেতা অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। যখন ডাগহাউসের সদস্যরা একে একে কঠিন সব চ্যালেঞ্জ পার করছিলেন, তখন রাত দেড়টা থেকে ভোর তিনটে পর্যন্ত চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শেষ টাস্কের সময় অন্যান্য প্রতিযোগীরা জেগে থেকে তাঁদের মনোবল জোগাচ্ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, দলের বাকি সদস্যরা যখন পরিশ্রান্ত হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন নিজের বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। বাইরে যতই প্রতিযোগিতা চলুক না কেন, সেদিকে ন্যূনতম মাথাব্যথা না রেখে তাঁর এই নির্বিকার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম সমালোচনার ঝড় তুলেছে। নেটিজেনদের একাংশ অনিন্দ্যর এই কাজকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন এবং তাঁর এই আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা কটাক্ষ।

এদিকে শুধু অনিন্দ্যর ঘুমিয়েই থাকা নয়, বরং বিগ বসের ঘরের অন্দরমহল এখন নিত্যদিনের ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি এবং মনকষাকষিতে জমজমাট। সম্প্রতি প্রতিযোগী নন্দিনী ও জয়িতার মধ্যে হওয়া একটি তীব্র কথা কাটাকাটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় চর্চার অন্ত নেই। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন জয়িতা অভিযোগ করেন যে, ভরত কলকে ক্যাপ্টেন হিসেবে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁকে কথা শুনিয়েছেন নন্দিনী। জয়িতার আরও দাবি, ভরত কলকে ‘ফাদার ফিগার’ বা অভিভাবকতুল্য বলায় নাকি নন্দিনী কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তিনি এখানে বাবা-মা বানাতে এসেছেন কি না। যদিও পরবর্তীতে নন্দিনী এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্পষ্ট জানান যে তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মনামীর সঙ্গেও নন্দিনীর কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জয়িতা ও নন্দিনীর মধ্যকার সেই ক্ষণিকের ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেলেও, শোয়ের অন্দরের এই নিত্যনতুন নাটক দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়িয়ে চলেছে।