অতি বৃষ্টির বলি উত্তর ভারত! ভূমিধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন, কী পরিস্থিতি দিল্লি-পঞ্জাবের?

ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। গত দুই সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব এবং দিল্লিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

জম্মু-কাশ্মীর
প্রবল বর্ষণের ফলে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কসহ সমস্ত প্রধান রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ২৬ আগস্ট থেকে ৩,৫০০-এরও বেশি যানবাহন আটকে আছে। এর ফলে কাশ্মীর দেশের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাত বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের কাছে ভূমিধসে ৩৪ জন দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রেল যোগাযোগও নয় দিনের জন্য স্থগিত রয়েছে।

হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড
হিমাচলে ভূমিধসের কারণে দুটি বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং ছয়জন মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। ২০ জুন থেকে এ পর্যন্ত ৯৫টি হড়পা বান এবং ১২৭টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি সংক্রান্ত ঘটনায় মোট ৩৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ৩,৬৯০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে ভারী বৃষ্টির কারণে ৫৪টি রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

পাঞ্জাব ও দিল্লি
পাঞ্জাবে শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩.৫৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১.৭৫ লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লিতে যমুনার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় দিল্লির সচিবালয়সহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ২২ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উত্তর ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পানীয় জলের সরবরাহ, বন্যাকবলিত এলাকা খালি করা, এবং ত্রাণকার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও তার ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ উত্তর ভারতের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।