চরম অবসাদ কেড়ে নিল প্রাণ! NEET পরীক্ষার ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে দেশজুড়ে নেমে এল শোকের ছায়া

পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন এবং বাবা-মায়ের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার চরম মানসিক চাপ যে তরুণ প্রজন্মের মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করছে, তার আরও এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এল। দেশজুড়ে যখন হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই আবহেই পরপর দুই রাজ্যে দুই মেডিকেল পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং তীব্র মানসিক অবসাদের জেরে পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে এই ধরনের মর্মান্তিক পথ বেছে নেওয়ায় কাঠগড়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মানসিক চাপ ও পারিবারিক প্রত্যাশার পারদ।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হস্টেলে ঘটে গেছে এক লোমহর্ষক ঘটনা। আগামী রবিবার NEET-PG পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও, ঠিক তার আগের দিন শনিবার ২৬ বছর বয়সি এক তরুণী পরীক্ষার্থী বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। অন্ধ্রপ্রদেশের কড়পা জেলার বাসিন্দা মৃত ওই ছাত্রীর নাম যশবিথা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। স্নাতক পর্ব শেষ করার পর গত কয়েক মাস ধরে তিনি অত্যন্ত কড়া নিয়মের মধ্য দিয়ে NEET-PG প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনারস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক লড়াই এবং তা কাটিয়ে উঠতে না পারার অসহায়তার কথা উল্লেখ করে গেছেন। এই ঘটনায় চিক্কাডপল্লি থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, ঠিক একই ধরনের আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে চলতি মাসেই মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলায়। সেখানে ১৯ বছরের এক NEET-UG পরীক্ষার্থী কৃষ্ণা সুভাষ সোনাওয়ানে নিজ বাড়িতে আত্মঘাতী হন। বৈজাপুর তালুকের খান্দালা গ্রামে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি চরম পদক্ষেপ নেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, “আমি পরের জন্মে ডাক্তার হব।” পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার হতাশা এবং পরিবারের আশা পূরণ করতে না পারার অপরাধবোধই তাঁকে এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ একটি এক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট (ADR) নথিভুক্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত এই প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির অতিরিক্ত চাপ এবং তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে চিকিৎসামহল ও শিক্ষাবিদদের অন্দরে এখন থেকেই তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।