পিছিয়ে যাবে পরীক্ষা? চাকরি হারাদের মনে ভয়, SSC-র সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ!

দুর্নীতিতে বাতিল হওয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ পরীক্ষা নতুন করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই পরীক্ষা হলেও, চাকরিহারাদের মধ্যে যেমন সংশয় রয়েছে, তেমনই SSC-ও নতুন করে আইনি জটে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। একদিকে যেমন একদল চাকরিহারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তেমনই অন্য একটি অংশ এখনও এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

এসএসসি এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে:

OMR শিট সংরক্ষণ: আগের মতো এক বছরের বদলে এবার OMR শিট ১০ বছর ধরে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম হলে তা সহজেই চিহ্নিত করা যায়।

প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধি: নিয়োগ প্যানেলের মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ১ বছর ৬ মাস করা হয়েছে।

অভিজ্ঞতার নম্বর: চাকরিহারাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর যোগ করা হবে, যা তাদের জন্য কিছুটা সুবিধা দেবে।

তবে এই নতুন নিয়মগুলো নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো অনেকেই বলছেন, ২০১৬ সালের নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুন নিয়ম তৈরি করা আইনত বৈধ নয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SSC ১,৮০৬ জন অযোগ্য শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই তালিকা কি সম্পূর্ণ? সিবিআই-এর তালিকায় আরও বেশি নাম ছিল, কিন্তু SSC-এর তালিকায় তা কম কেন? এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও প্রশ্ন করেছে। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেছেন, তালিকা সম্পূর্ণ নয় এবং আরও অনেক অযোগ্য শিক্ষক এখনও চিহ্নিত হননি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই ১,৮০৬ জন কোনোভাবেই নতুন পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। কিন্তু বাকি অযোগ্যরা কি পরীক্ষায় বসতে পারবেন? এই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

হঠাৎ করে নতুন নিয়মে পরীক্ষা দেওয়া চাকরিহারাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদল আন্দোলন চালিয়ে গেলেও, অনেকেই বুঝতে পেরেছেন যে নতুন করে পরীক্ষায় বসা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। তবে, এত বছর পর আবার পরীক্ষায় বসা এবং সফল হওয়া কঠিন। এছাড়া, SSC-এর স্বচ্ছতা নিয়েও তাদের মনে গভীর সন্দেহ রয়েছে। এত বিতর্কের পর, ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষা সত্যিই নির্ঝঞ্ঝাট হবে কিনা, সেই প্রশ্নই এখন সবার মনে ঘুরছে।